তাৎপর্যপূর্ণ কালাম ও আয়াতের শিক্ষা

1059 0

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

 
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
〖أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ ۚ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَٰنُ ۚ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ〗
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【তারা (আল্লাহর নিদর্শনাবলী অস্বীকারকারীরা) কী তাদের মাথার উপরে পাখিগুলোর দিকে লক্ষ্য করে না, যারা কখনো পাখা বিস্তার করে আর কখনো পাখা সংকুচিত করে? দয়াময় সৃষ্টিকর্তা ছাড়া তাদেরকে অন্য কেউ আসমানের বুকে স্থির রাখতে পারে না। কেননা, তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।】
✎ English:
『Do they not see the birds above them with wings outspread and [sometimes] folded in? None holds them [aloft] except the Most Merciful. Indeed He is, of all things, Seeing』
↯↻↯↻↯
🔰সূরা আল মুল্-ক, সূরা নং ৬৭, আয়াত নং ১৯।
 
⇩ প্রার্থনাঃ
হে দায়াল প্রভু!…….
আমারও মন চায় পাখা মেলে উড্ডয়ন করতে,
যে পাখা থাকবে হালকা…….
যেনো তোমার আর্-শে কিবরিয়া পর্যন্ত উড়তে পারি,
হে আমার প্রতিপালক!!
গুনাহ-র এই ভারী বোঝা, আহ্! এই ভারী বোঝা, যা আমাকে যমিনেই আটকে রেখেছে, তার ব্যাপারে ক্লান্ত হয়ে গেছি!…….
আমি অত্যন্ত ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত, হে আমার মালিক!!
আমার দিকে একটু ফিরে তাকাও…….
↯↻↯↻↯
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 

〖وَالْفَجْرِ * وَلَيالٍ عَشْرٍ * وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ〗

✎বঙ্গানুবাদঃ
【(আমি) ঊষার-এর শপথ (করে বলছি), (আমি) দশ রাত্রির শপথ (করে বলছি), (আমি) জোড় ও বেজোড় (সংখ্যার) শপথ (করে বলছি)】
✎ English:
『By the dawn * And by ten nights * And by the even [number] and the odd』
↯↻↯↻↯
🔰সূরা আল ফাজ্-র, সূরা নং ৮৯, আয়াত নং ১-৩।
❥✦ ক্বুরআনুল কারিমে ইমাম আমিরুল মুমিনিনের উপাধি
➋ الشـَّـفـْـع/ আশ্ শাফ্-য়ি
↯↻↯↻↯
⇩শিক্ষাঃ
হযরত জাবির জু’ফি (রহঃ) উক্ত আয়াতে কারিমা সম্পর্কে বলেনঃ “ইমাম জাফার সাদিক্ব আমাকে বলেন, হে জাবির! «وَالْفَجْرِ» আমার পিতামহ, আর «وَلَيالٍ عَشْرٍ» দশজন ইমাম, «وَالشَّفْعِ» আমিরুল মুমিনিন এবং«وَالْوَتْرِ» ইমামুল ক্ব-য়িম ইমামুল মাহদী (আঃ)-এর নাম।”
📚 সুত্রঃ মানাক্বিব আলে আবি ত্বালিব, খণ্ড ১, পৃঃ নং ২৮১।
↯↻↯↻↯

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

•✦❖بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ ❖✦•

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

✎বঙ্গানুবাদঃ【তিনি (সেই আল্লাহ), যিনি যমিনের অভ্যন্তরে যা কিছু আছে তা তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আসমানসমূহ সৃষ্টির দিকে নজর দেন এবং সাত আসমান একের উপরে একটি করে সাজালেন। আর তিনি সব কিছু সমন্ধে জ্ঞাত।】

✎ English:
『It is He who created for you all of that which is on the earth. Then He directed Himself to the heaven, [His being above all creation], and made them seven heavens, and He is Knowing of all things』
↯↻↯↻↯

সূরা আল বাক্বারা, সূরা নং ২, আয়াত নং ২৯।

⇩ উপদেশঃ
⁉️ আপনি কী দেখতে চান, আল্লাহ যখন বলে
দুনিয়ার সব কিছু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছি, এর অর্থ কী?

 তাহলে, ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞানের গবেষণা ও পর্যবেক্ষণমূলক যে বিভিন্ন দৃশ্য উঠে এসেছে সেদিকে দৃষ্টি দিন। অনায়াসে দেখতে পাবেন আল্লাহ তায়ালার কুদরত। আর তার কুদরতের এই সৃষ্টি আপনার জন্যে দান করেছেন তিনি। কেমন অনুভুতি হবে আপনার? এ বিষ্ময়কর বিশ্ব জগতের কাছে নিজেকে কেমন ছোট মনে হবে, তাই না? এরপরো সেগুলোর সবটুকুই আপনার জন্যে সৃষ্টি করা হয়েছে।

আমাদেরকে এত মূল্য দেয়ার পরো কী করে তাঁর হুকুম অমান্য করতে পারি?

↯↻↯↻↯

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 

〗الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاء وَالضَّرَّاء وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ〖
✎বঙ্গানুবাদঃ
【যারা স্বচ্ছলতা ও অভাবের সময়ে (=উভয় সময়ে) দান করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে দেয়, (তারা উপকারী ব্যক্তি)। আল্লাহ উপকারী ব্যক্তিদের ভালবাসেন।】
✎ English:
『Who restrain anger and who pardon the people – and Allah loves the doers of good;』
↯↻↯↻↯
🔰সূরা আলে ইমরান, সূরা নং ৩, আয়াত নং ১৩৪।
⇩কি সুন্দর বিনিময়!!!
আল্লাহর প্রিয়ভাজন হবার অন্যতম পথ হচ্ছে,
১। সুখে-দুঃখে, সুসময়ে ও দুঃসময়ে, অভাবের সময়ে ও প্রাচুর্যের সময়ে, সর্বাবস্থায় আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যে এগিয়ে আসা,
২। ক্রোধ সংবরণ করা ও
৩। মানুষের অসদাচরণকে ক্ষমা করে দেয়া।
অর্থাৎ আপনি দিবেন, আল্লাহও আপনাকে দিবেন,
আপনি মানুষের মাঝে নিজের ক্রো😡ধের আগুন নিভিয়ে দিবেন
আর আল্লাহও আপনার গুনাহের কারণে প্রজ্জ্বলিত তাঁর রাগস্বরের আ🔥গুন নির্বাপিত করে দিবেন।
আপনি মানুষকে ক্ষমা করে দিবেন, আল্লাহও আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন।
কতই না ভাল বিনিময়↓↓↓…
↯↻↯↻↯

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 

〗إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا〖

 ✎বঙ্গানুবাদঃ
【তোমাদের সকলকে আল্লাহরই সমীপে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।】
 
✎ English:
『To Allah is your return all together』
 
📚সূরা আল মায়িদা, সূরা নং ০৫, আয়াত নং ৪৮।
 
⇩উপদেশঃ
সর্বদা এমনভাবে জীবন যাপন করুন…
যেনো, যখন আল্লাহর কাছে ফিরে যাবেন…
তখন লজ্জিত হওয়া ছাড়াও…
দেখানোর মত কিছু আপনার কাছে থাকে…
 

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ ۚ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ〖
 
✎ বঙ্গানুবাদঃ
【হে ঈমানদাররা! কখনো যেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে ফেলে। যারা এরকম করবে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।】
📚সূরা আল মুনাফিক্বুন, সূরা নং ৬৩, আয়াত নং ৯।
✎ English:
『O you who have believed, let not your wealth and your children divert you from remembrance of Allah. And whoever does that – then those are the losers』
 
⇩শিক্ষাঃ*
❥✦ সর্বোচ্চ ক্ষতি…*🤔
সাবধান!!
সম্পদ-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্ততির মায়া আমাদেরকে যেন আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়…
যত বেশী-ই আপনি উড্ডয়ন করেন না কেন,
আপনার অন্তরের পদযুগল যদি আটকে পড়ে যায়…
তাহলে আর উড়তে পারবেন না কিন্তু! …
মনে রাখবেন! সম্পদ হাতছাড়া হয়ে গেলে…
অথবা এমনকি সন্তানও যদি চলে যায়…
=মানুষের আংশিক ও স্বল্প পরিমান ক্ষতি হতে পারে,🤔
⚠️কিন্তু একজন মানুষ সত্যিকার ও বিশাল ক্ষতির সমুক্ষীন তখনি হয়…
#যখন সে আল্লাহকে ভুলে যায়!!!

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا 〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【(আল্লাহ পূর্ববর্তী দুই আয়াতে পাপিদের বিভিন্ন পাপের শাস্তির কথা বলেছেন। অতঃপর বলছেন) তারা ব্যতীত, যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে। আল্লাহ তাদের বদীগুলোকে নেকীতে পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ অতিব ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।】
📚সূরা আল ফুরক্বান, সূরা নং ২৫, আয়াত নং ৭০।
 
⇩তাফসীরঃ
🔷তাওবার মাধ্যমে কিভাবে গুনাহ সাওয়াবে রূপান্তরিত হয়ে যায়?
🔷আল্লাহ কিভাবে একদল মানুষের বদীগুলোকে নেকীতে পরিবর্তন করে দিবেন? এই বদীগুলোর মধ্যে কবিরা গুনাহও কী অন্তর্ভুক্ত?
🔶আল্লাহ শির্ক-কে সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাকে ক্ষমার অযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন। (সূরা আন নিসা, সূরা নং ৪, আয়াত নং ১১৬)।
 
🔶আর আল্লাহ যদিও অন্যান্য সকল গুনাহকে নিজের চোখের আড়াল করতে পারেন কিন্তু শির্ক-এর ব্যাপারে কোন ছাড় দিবেন না এবং তিনি মুশরিকদের উপর বেহেশ্ত হারাম করেছেন। (সূরা আল মায়িদা, সূরা নং ৫, আয়াত নং ৭২)।
 
🔶এর পরও আল্লাহ তাঁর রহমত ও ক্ষমার ব্যাপারে নিরাশ হওয়াকেও ক্ষমার অযোগ্য গুনাহ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন এবং বলেছেনঃ “শুধুমাত্র কাফেররাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়।” (সূরা ইউসুফ, সূরা নং ১২, আয়াত নং ৮৭)।
 
🔶অতএব, আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত সকল মানুষকে তাওবা ও তাঁর দিকে ফিরে আসার জন্যে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা আয যুমার, সূরা নং ৩৯, আয়াত নং ৫৩ ও ৫৪)।
 
🔶আল্লাহ রাহমানুর রাহিম কোরআনুল কারিমের অন্যত্র বলেছেন, যদি আমার বান্দারা তাওবা করে এবং নেক আমল করে, তাহলে তাদের বদীগুলোকে নেকীতে পরিবর্তন করে দিবেন। আর এই পর্যায়টা ক্ষমার চেয়েও উপরে। যেমনিভাবে দেখা যায়, সূরা আল ফুরক্বান, সূরা নং ২৫, আয়াত নং ৭০-এঃ
 
إِلاَّ مَنْ تابَ وَ آمَنَ وَ عَمِلَ صالِحاً فَأُوْلئِکَ یُبَدِّلُ اللَّهُ سَیِّئاتِهِمْ حَسَناتٍ…
 
 
[তারা ব্যতীত, যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে। আল্লাহ তাদের বদীগুলোকে নেকীতে পরিবর্তন করে দিবেন।]
 
🔶আল্লাহ «سیئات» বা «বদী» বা «মন্দ কাজগুলো»-শব্দকে সার্বিকতার আলোকে ও শর্তহীনভাবে বর্ণনা করেছেন, যা সকল গুনাহকে অন্তর্ভুক্ত করে, এমনকি সর্ববৃহৎ গুনাহ শির্কও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
 
 বদীগুলো নেকীতে পরিবর্তন হওয়ার শর্তঃ
হ্যাঁ, বদীগুলো নেকীতে পরিবর্তন হয়ে যাওয়া, যা উক্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, তার কিছু শর্ত বিদ্যমান। একজন মানুষকে অবশ্যই তা সম্পাদন করতে হবে। অন্যথায় বদীগুলো নেকীতে পরিবর্তন হবে না।
1⃣প্রথম শর্ত হচ্ছে যে, সে ব্যক্তি যেনো সত্যিকার তাওবা করে এবং অতিতের গুনাহ তরক করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যায়।
এক্ষেত্রে ইমাম আলী(আ:) বলেছেনঃ
«*”তাওবার শর্ত ছয়টাঃ*
১. অতিতের কৃতকর্ম সম্পর্কে অনুশোচনাবোধ।
২. অতিতে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
৩. মানুষের হক্ব নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেয়া।
৪. ছুটে যাওয়া সকল ফরজ আমলগুলোর ক্বাজা আদায় করে নেয়া।
৫. হারাম খাদ্যের মাধ্যমে দেহে যে মাংস গজিয়েছে তা অনেক দিন প্রচুর অনুশোচনার মাধ্যমে পানি করে ফেলা।
৬. আল্লাহর আনুগত্যের কষ্ট দেহকে বুঝতে দেয়া, যেমনি করে গুনাহর মজা এ দেহ আস্বাদন করেছিল।»
(নাহজুল বালাগ্বা, প্রজ্ঞাময় বাণী নং ৪১৭)।
 
2⃣দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে ঈমান, যা শির্কের নাপাকি থেকে অন্তরকে পবিত্র করে তোলে।
 
3⃣তৃতীয় শর্তঃ
নেক আমল আনজাম দেয়া।
 
যদি কেউ উপরোক্ত শর্তগুলো পালন করে তাহলে আল্লাহ পাকও ওয়াদা করেছেন ঐ ব্যক্তির গুনাহ তিনি ঢেকে দিবেন। এক্ষেত্রে হযরত ইমাম জাফার সাদিক্ব(আ:)-এর একটি বাণী প্রণিধান যোগ্যঃ
«যে সব ফেরেশ্তা তার গুনাহ লিখতেন তাদের স্মরণ থেকে গুনাহগুলো বিস্মৃতি করে দিবেন এবং তাদের অঙ্গ প্রতঙ্গ ও যমিনকে প্রত্যাদেশ করবেন, তার গুনাহ যেনো পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয়। পরিণতিতে যেদিন সেই ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাতে গমন করবে সেদিন তার গুনাহের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদানের আর কেউ থাকবে না।»
(তাফসীরুল মিযান, ফারসী অনুবাদ, অনুবাদকঃ মুহাম্মাদ বাক্বির মুসাভী, খণ্ড ৪, পৃঃ নং ৩৯৯)।
সুতরাং সেই ব্যক্তির অনবরত নেক আমলের কারণে যখন তার আমলনামায় কোন গুনাহ না থাকে, তখন তার আমলনামায় পূণ্য ও নেকী ছাড়া অন্য কিছু লিপিবদ্ধ থাকবে না। এটাই সেই বদীগুলোর নেকীতে রূপান্তরণ ও পরিবর্তন, যা আয়াতে বলা হয়েছিল।
💐এটা সর্বদা মনে রাখা প্রয়োজন যে, তাওবা কবুল করা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক প্রকার অনুগ্রহ, যা তিনি তার বান্দাদের করে থাকেন যেনো তারা কখনো নিরাশ না হয় এবং যখনি উপলব্ধি করবে তখনি যেনো তাঁর দিকে ফিরে আসে। আরো মনে রাখা দরকার, আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা থেকে নিরাশ হওয়া একজন মুমিনের জন্যে অনুপযুক্ত। যারা নিজ অন্তরে চিরস্থায়ী জীবনের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন তারা সর্বদা আল্লাহর দরগাহের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন।
 
💐 *আল্লাহ আমাদের ফিরে আসার দিকে তাঁকিয়ে আছেন। বিসমিল্লাহ!!!*

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗فَسَقَىٰ لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّىٰ إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【(হযরত মূসা) তখন তাদের (হযরত শুআইব-এর দুই মেয়ের) পশুগুলিকে পানি পান করালো। অতঃপর সে ছায়ার নীচে আশ্রয় গ্রহণ করে বললোঃ “হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে মঙ্গল বিষয় অবতীর্ণ করবে আমি তার কাঙ্গাল।”】
📚সূরা আল কাসাস, সূরা নং ২৮, আয়াত নং ২৪।
 
*⇩ইয়া আল্লাহ*
আমি তোমার প্রতি মুখোপেক্ষী…
প্রতি দিন…
প্রতিটি মুহুর্তে…
প্রতিটি সেকেন্ডে আমি যে শাষ প্রশাস গ্রহণ করি…
তোমাকে এবং তোমার দান ছাড়া আমি সম্পূর্ণ অপারগ ও অসহায়।
হে আমার প্রতিপালক!…
এই অসহায় অপারগ অভাবীকে একটু ধরে উঠাও…
যার সমস্যা ও অভাবের কোন অন্ত নেই…
😔😔😔
❥✦ *বিপদের সময় এই ভিক্ষুককে একটু দেখো!!*

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ〖
 
📚সূরা ইয়াসিন, সূরা নং ৩৬, আয়াত নং ৮২।
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【তিনি[=আল্লাহ] যখন কোন কিছু ইচ্ছা করেন, আদেশ করেনঃ হও। হয়ে যায়।】
 
⇩সমাধানের চাবিকাঠি এখানেঃ
⇩ যার আল্লাহ আছে তার সব আছে
💯যখন যে কোন একটা কাজ সম্পাদনের জন্যে আল্লাহর ইচ্ছা-ই যথেষ্ট;
💯যখন কোন কিছু করার জন্যে শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছাই যথেষ্ট;
[কেননা তিনি চাইলে অবশ্যই হয়ে যাবে…]
কেননা, তিনি চাইলে অবশ্যই অবশ্যই সেই কাজটি হয়ে যাবে…
 
🌹তাহলে, দুশ্চিন্তা ও উত্কণ্ঠা কেন?
 
🔊তাহলে আর দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী কেনো?
 
👁🗨তাঁর উপর ভরসা করুন
তাঁর কাছেই চান
তাঁর হুকুম মত চলুন
তাঁর পথে চলুন
তিনিই আপনার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেন
💯এক মুহুর্তেই……
আমার যে মহাশক্তিমান আল্লাহ-ই একমাত্র ভরসা…
 

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ و َكُلَّ شَيْءٍ أحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ. 〖
 
📚সুরা ইয়াসীন, সূরা নং ৩৬, আয়াত নং ১২।
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【হ্যাঁ, আমরাই মৃতদেরকে জীবিত করে থাকি এবং তারা আগে যা পাঠিয়েছে তার সাথে তাদের কৃত আমলগুলোকে লিখে রাখার ব্যবস্থা করি। আর আমরা প্রত্যেক বিষয়কে সুস্পষ্ট ইমামের কাছে সংরক্ষিত রেখেছি।”
 
[উক্ত আয়াত যখন নাযিল হয় তখন হযরত আবু
বকর এবং হযরত ওমর উভয়ে দাড়িয়ে প্রশ্ন
করলেন, ইয়া রাসুল্লাহ (সাঃ), কে এই
ইমামুম মুবিন? যার সম্বন্ধে স্বয়ং আল্লাহ বলেনঃ
“প্রত্যেকটি বিষয়ের জ্ঞান ও রহস্য আমি
তার মধ্যে গনণা ও বণর্না করেছি”,
সেটা কি তাওরাত?
 
নবীজী (সাঃ) বললেন, না।
তারা আবার জিজ্ঞেস করলেন,
সেটা কি ইঞ্জিল?
নবীজী (সাঃ) বললেন, না।
পুনরায় তারা আরজ করলেন, তাহলে
কি সেটা কোরআন?
তিনি (সাঃ) বললেন, না।
ইতিমধ্যে সেখানে হযরত আলী ইবনে আবি তালিব হাজির হলেন ।
তখন রাসুল (সাঃ) জনাব আবু বকর ও উমরকে বললেন, “এই
আলী-ই হচ্ছে “ইমামুম মুবিন”, যার মধ্যে মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের
জ্ঞানকে গননা ও একত্রিত করে দিয়েছেন।]
সূত্রঃ
তাফসীর আদ্ দুররুল মানসুর, খন্ড ৫, পৃঃ নং ২৬২; ক্বিফাইয়াতুল মুওয়াহ্ হিদ্বীন, খণ্ড ২, পৃঃ নং ৫২১; ইউনাবিউল মাওয়াদ্দাহ, পৃঃ নং ১২০; সামারাতুল হায়াত, খণ্ড ২, পৃঃ নং ২২৮; তাফসীর আল কুম্মি, খণ্ড ২, পৃঃ নং ২১২।
আর ইমাম আলীর পরবর্তিতে তাঁর উত্তরসূরীরা হচ্ছেন প্রতিটি যামানার ইমামুম মুবিন। সে অনুযায়ী আমাদের যামানার ইমাম, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম হচ্ছেন, বর্তমান কালের ইমামুম মুবিন, যার মধ্যে মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের জ্ঞানকে গননা ও একত্রিত করে দিয়েছেন।।

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗لَوْ أَنْزَلْنَا هَٰذَا الْقُرْآنَ عَلَىٰ جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ ۚ〖
📚সূরা আল হাশর, সূরা নং ৫৯, আয়াত নং ২১।
✎বঙ্গানুবাদঃ
【(হে রাসূল!) যদি আমি এই কুরআন কোন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম তাহলে তুমি দেখতে পেতে, তা আল্লাহর ভয়ে কিভাবে বিণীত ও বিদীর্ণ হয়ে যায়।】
✎ English:
『If We had sent down this Qur’an upon a mountain, you would have seen it humbled and coming apart from fear of Allah.』
 
⇩আফসোসঃ
🔸একটা পাহাড় এত কঠিন ও মজবুত হবার পরো…
🔸আল কুরআনের মহত্বের মোকাবেলায় তা কিছুই না, বরং সাথে সাথে অবণত হয়ে যায়…
🔸এবং মাটির সাথে মিশে যায়…
🤔কিন্তু…
👁🗨মানুষের কিছু ক্বলব আছে…
🔊নানা
😒গুনাহের ভারী বোঝা…
😭ক্বলবকে পাথরের চেয়েও কঠিন করে তোলে……
❣️❣️❣️❣️❣️
ইয়া আল্লাহ………
 

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ ۗ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【তিনি[=আল্লাহ] মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন যেন তাদের (বর্তমান) ঈমানের সাথে আরো পরিমান ঈমান বৃদ্ধি পায়】
🔰📚সূরা আল ফাতহ, সূরা নং ৪৮, আয়াত নং ৪।
 
⇩সত্যবাণীঃ
🔸যদি এখনো প্রশান্ত নই
🔸এর কারণ,
হয়তো এখনো আমরা মুমিন হতে পারিনি।
🌺সম্ভবতঃ কিছু গুনাহ এখনো আমার অন্তরে কালিমা লেপন করে বসে আছে
🔸যার কারণে প্রশান্তি অবতীর্ণ হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【তিনি সেই প্রভু যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন।】
✎ English:
『He is Lord, Who created you, proportioned you, and balanced you?』
🔰📚সূরা আল ইনফিতার, সূরা নং ৮২, আয়াত নং ৭।
 
⇩উপদেশঃ
🔊 সুশৃংখল ও সুবিন্যস্থ এ পৃথিবীর সব কিছু আল্লাহর হাতে সৃষ্টি। আমরা কতটুকু এই ব্যাপারে ভেবেছি?!💐
 
•✦ আল্লাহর কালাম ✦•
 
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ ۖ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَىٰ نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ۖ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【(হে রাসূল!) আমার আয়াতগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীরা যখন তোমার নিকট আসে তখন তাদেরকে বলঃ “সালামুন আলাইকুম।” (আরো জানিয়ে দাও,) তোমাদের প্রতিপালক নিজের জন্যে (তোমাদের উপর) দয়া ও অনুগ্রহ করার নীতি বাধ্যতামূলক করে নিয়েছেন। (তাই,) তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অজ্ঞতা ও মূর্খতাবশতঃ কোন খারাপ কাজ করে বসে, অতঃপর সে যদি তাওবা করে নিজেকে সংশোধন করে নেয় তাহলে (তারা যেনো জেনে রাখে) তিনি [=আল্লাহ] হচ্ছেন ক্ষমাশীল ও করুণাময়।】
🔰📚সূরা আল আনআম, সূরা নং ০৬, আয়াত নং ৫৪।
 
⇩ *সাধারণ ক্ষমার সু্যোগ!!*
😍কতই না মহান! আমার সৃষ্টিকর্তা…
🤔কতই না ক্ষমা পরায়ণ তিনি! তিনি আমার মাশুক মা’বুদ…
👌আমাকে ডাকছেন নিজের দিকে…
😭যদিও জানেন যে, আমি গুনাহগার…
 

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ ۖ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【অতএব, (হে ঈমানদার বান্দা!) তুমি ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং তা বাস্তবায়িত হবেই। (সাবধান!) যারা ঈমান ও (আমলে) দৃঢ় নয় তারা যেনো তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।】
🔰📚সূরা আর রুম, সূরা নং ৩০, আয়াত নং ৬০।
 
⇩দৃঢ় থাকুনঃ
ভ্রুক্ষেপ করবেন না, আপনাকে কে কি বললো,
👁🗨আপনি দেখুন, আপনি আল্লাহ, রাসূল(সা.) ও তাঁর নির্দেশিত নেতৃত্বকে মেনে চলছেন কিনা,
🙄আপনি শুধু দেখবেন! আপনি কোরআনের বিধান মোতাবেক চলছেন কিনা, ব্যাস…
🔊আপনার ইমামের কাছে আপনি বাইয়াত হয়েছেন কিনা…
💯আপনি আপনার আখেরাতকে ঠিক রাখুন।
দূর্বল ও নির্বোধরা যা বলে বলুক,
🤔আপনি শিয়া হয়ে গেছেন, আপনি বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করেছেন… ইত্যাদি কত কি!!
আপনি মোটেও বিচলিত হবেন না।
বাইয়াতের রশি শক্ত করে আকড়ে ধরুন।
🌹সকল প্রকার ঝড়-তুফান থেকে আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করবেনই…
💯আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে…💐
 

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَىٰ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【মানুষের জন্যে যা (অর্জন হয়) তা তার কর্ম প্রচেষ্টার-ই ফলাফল।】
🔰📚সূরা আন নাজম, সূরা নং ৫৩, আয়াত নং ৩৯।
 
 *কাজের সময় এখনইঃ*
ইমাম আলী(আ.) বলেছেনঃ
 
*ان الیوم عمل و لا حساب و غدا حساب و لا عمل.*
 
“এ দুনিয়া আমল করার জায়গা, হিসাবের জায়গা নয়। আর আখেরাত হিসাবের জায়গা আমল করার জায়গা নয়।”
(গুরারুল হিকাম, হাদিস নং ১১০০০)।
🔊দুনিয়াতে আমরা ভাল ভাল কাজ করার সুযোগ পেয়েছি…
যেহেতু বাস্তবে ক্বিয়ামতের ব্যাপারে আমাদের অনেকের ঈমান দূর্বল,
তাই, অবহেলা করি।
💯কিন্তু ক্বিয়ামতের দিন যখন সব কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে…
তখন কিন্তু আমল করার আর কোন সুযোগ থাকবে না,
 
🔜তাই, আসুন! সময় থাকতেই সচেতন হই…
আর আখেরাতের ভাল ফলাফলের জন্যে সর্বাত্তক প্রচেষ্টা চালাই।
 

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【তুমি ভরসা করো তাঁর [=আল্লাহর] উপর যিনি চিরঞ্জীব, যাঁর কোন মৃত্যু নেই। আর তাঁর প্রশংসাসহ তসবিহ পাঠ করো। এটাই যথেষ্ট যে, তিনি তাঁর বান্দাদের গুনাহ সম্পর্কে সম্যক অবহিত আছেন।】
🔰📚সূরা আল ফুরক্বান, সূরা নং ২৫, আয়াত নং ৫৮।
 
⇩উপদেশঃ
💢জীবনের সর্বক্ষেত্রে…
এমন কারো উপর *ভরসা* করো
👁🗨যার ব্যাপারে তুমি নিশ্চিত থাকতে পারো যে…
👁🗨সে আরো এক ঘন্টা জীবিত আছে
আল্লাহ-ই একমাত্র ভরসাস্থল হবার যোগ্য
যিনি চিরজীবি ও সর্বদা বিরাজমান।
🤔সাবধান! তিনি কিন্তু আমাদের গুনাহের ব্যাপারে সম্যক ওয়াকিবহাল।

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
】وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا.*
*وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا.*
*وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا.*
*إِنَّهَا سَاءتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا.*
*وَالَّذِينَ إِذَا أَنفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا.*
*وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا.*
*يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا.*
*الَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا【
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【 📚(আল্লাহু) “রহমান”- এর (খাস) বান্দারা যমিনের বুকে প্রশান্তির সাথে ও নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন তাদেরকে অজ্ঞ ও মূর্খ লোকেরা সম্বোধন করে (এবং অপরিপক্ক ও অগ্রহণীয় কথাবার্তা বলে) তখন তারা [=আল্লাহর খাস বান্দারা] সালাম বলে (তাদের পাশ কেঁটে চলে যায়)।
 
📚তারা [=আল্লাহু রাহমানুর রাহিমের খাস বান্দারা] রাত্রিতে তাদের প্রতিপালকের (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে সেজদাবনত ও (সালাত আদায়ের জন্যে) দন্ডায়মান থাকে।
 
📚তারা [=আল্লাহু রাহমানুর রাহিমের খাস বান্দারা] বলেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি বিদূরিত করে দাও। কেননা, সেই শাস্তি যে, নিঃসন্দেহে কঠিন ও চিরস্থায়ী হবে।
 
📚নিঃসন্দেহে সেই স্থান বসবাসের জন্যে কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল!”
 
📚(হে মানুষেরা! জেনে রাখো,) আর যখন তারা [=আল্লাহু রাহমানুর রাহিমের খাস বান্দারা] ব্যয় করে তখন তারা অপব্যয়ও করে না কার্পন্যও করে না। বরং তারা এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে।
 
📚এবং তারা [=আল্লাহু রাহমানুর রাহিমের খাস বান্দারা] আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে মা’বুদ (উপাস্য) হিসাবে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে তারা হত্যা করে না এবং তারা যেনা ও ব্যভিচার করে না। যে এগুলো করবে সে (এ দুনিয়াতে) তার শাস্তি ভোগ করবে।
 
📚আর কিয়ামতের দিনে তার [=উপরোক্ত তিনটি নিকৃষ্ট কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তির] শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অনবরত অপমানিত হতে থাকবে।
 
📚কিন্তু যারা (উপরোক্ত তিনটি নিকৃষ্ট কাজ সম্পাদন করার পরও পুনরায় অনুতপ্ত হয়ে খালেস নিয়তে) তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎ ও নেক কাজ করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে উত্তম আমলে পরিবর্তন করে দিবেন। (কেননা,) আল্লাহ বরাবরই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।】
🔰📚সূরা আল ফুরক্বান, সূরা নং ২৫, আয়াত নং ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭০।
 
🌷🌷🌷🌷
 
💫 যখন চুড়ান্তভাবে মদ পান নিষিদ্ধ হওয়ার আয়াত নাযিল হলো তখন রাসূল(সা.)-এর মুখপাত্র ঘোষণা দিলঃ
“এখন থেকে কেউ মদ পান করতে পারবে না।”
এরপর একদিন রাসূল(সা.) মদিনার কোন এক গলি অতিক্রম করছিলেন। সেখানে তিনি একজন মুসলমানের হাতে মদের বোতল দেখতে পান। লোকটি রাসূল(সা.)-কে তার দিকে আসতে দেখে শাস্তি পাবার ভয়ে অস্থির হয়ে উঠে।
 
সে সঙ্গে সঙ্গে অন্তর থেকে তাওবা করে আল্লাহকে বলতে শুরু করলোঃ
“হে আল্লাহ! আমাকে তুমি অপমানিত করো না। আমি তোমাকে কথা দিলাম, আমি আর মদ পান করবো না।”
 
💭আল্লাহর রাসূল(সা.) ঐ ব্যক্তির কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ
“এই বোতলে কী আছে?”
লোকটি উত্তর দিলঃ
“এর মধ্যে সিরকা আছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ!”
আল্লাহর হাবীব তাঁর হাত সামনে এনে বললেন, সেখান থেকে আমার হাতে একটু ঢাল তো দেখি।
ঢালার পর দেখা গেল যে, ঠিকই সিরকা ছিল…
 
😭লোকটি কেঁদে ফেললো। সে বলতে লাগলো, আল্লাহর কসম! এই বোতলে সিরকা ছিল না, মদ ছিল। কিন্তু তাওবা করার কারণে সিরকাতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ!…
 
দয়াল নবী(সা.) বলেনঃ
〖ঠিকই বলেছো। যে ব্যক্তি (অনুতপ্ত হয়ে খালেস নিয়তে) তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎ ও নেক কাজ করে, আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে উত্তম আমলে পরিবর্তন করে দেন।〗
 
📙মূলঃ
মাসাবিহুল ক্বুলুব,
লেখকঃ আবু সাঈদ আবু আলী হাসান ইবনে হাসান বাইহাক্বী (মৃত্যু- ৭৫৭ হিঃ)।
বর্ণিত হয়েছেঃ
কিতাবের নামঃ গোনাহানে কাবিরে,
লেখকঃ শহীদ আয়াতুল্লাহ দাস্তগায়েব, খণ্ড ২, পৃঃ নং ১১৯।

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার উপর শয়তানকে নিয়োগ দিই যেনো সে তার বন্ধু ও সাথী হিসাবে পরিণত হয়ে যায়।】
🔰সূরা আয্ যুখরুফ, সূরা নং ৪৩, আয়াত নং ৩৬।
 
⇩ *শয়তানের সাথী হয়ো না*
এ পর্যন্ত এরকম হয়েছে যে?,…
তুমি তোমার মোবাইল সেট উঠানো মাত্রই এ কৃত্রিম জগতে
একটার পর একটা ঘটনা ঘটেছে?
📵যা তুমি নিজেও পছন্দ করো না…
মনে হয় শয়তান তোমার পাশে বসে বসে বলছে
👁🗨তুমি কি করবে আর কি করবে না…
🙏তোমাকে অনুরোধ করে বলি, প্লিজ…..
🔊আর একবারের মত উপরের↑↑ আয়াতটি পড়ে দেখ।
😍আল্লাহকে সাক্ষী রেখে সত্যি সত্যি বলো তো….
🤔যে পরিমান তুমি মোবাইল নিয়ে অযথা ও অপরিকল্পিত সময় ব্যয় করো
🔹তার শতকরা একভাগও কী কোরআনের সাথে সম্পর্ক রেখেছো???
🔊হে যুবকরা!…..
হ্যাঁ, তোমাকে বলছি,
এক্ষুনি কোরআনের সাথে বন্ধুত্ব গড়ার প্রথম পদক্ষেপটি নাও,
🔸এক্ষুনি ওযু করে কোরআন হাতে তুলে নাও, চুমু দাও…
😭আর কেঁদে কেঁদে প্রতিজ্ঞা করো এক মুহুর্তের জন্যেও কোরআনের হুকুমের বাইরে যাবে না
প্রতিদিন কিছু সময় কোরআনের সাথে কাটাবে
ইয়া আল্লাহ…….

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〖وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَاٰئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا〗
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【মুমিন পুরুষ অথবা নারীদের মধ্য থেকে যারা নেক কাজ করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদের উপর তিল পরিমাণও জুলুম করা হবে না।】
 
✎ English:
『And whoever does righteous deeds, whether male or female, while being a believer – those will enter Paradise and will not be wronged, [even as much as] the speck on a date seed』
↯↻↯↻↯
🔰সরা আন নিসা, সূরা নং ৪, আয়াত নং ১২৪।
 
⇩ উপদেশ
কোন ভাল কাজকেই ছোট মনে করবেন না
এবং এই ছোট হবার কারণে সেটাকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।
কেননা, তিল পরিমান নেকীও আল্লাহর কাছে গচ্ছিত থাকে।
কে জানে…?
হয়তো আল্লাহর সন্তুষ্টি ঐ ছোট নেক কাজের মধ্যে নিহিত আছে!!! 

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلُ〖
 
✎বঙ্গানুবাদ:
【তোমরা আখেরাতের স্থলে দুনিয়ার জীবনের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছো? কিন্তু আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগ্যপণ্য যে অতিব নগন্য।!!】
🔰সূরা আত তাওবা, সূরা নং ৯, আয়াত নং ৩৮।
 
⇩বাছাই করো
🌊তোমার আঙ্গুল মহাসাগরে ডুবাও। এর পর তুলে নিয়ে আসো…
👈🏼যে পরিমান পানি তোমার আঙ্গুলের ডগায় রয়ে গেছে তার দিকে এবং মহাসাগরের দিকে তাকাও…
দুনিয়া ও আখেরাতের পার্থক্য এখানেই
🔸দুনিয়া আঙ্গুলের ডগার কয়েক ফোঁ💦টা পানির মত
🔹আর আখেরাত মহাস🌊মুদ্রের ন্যায়
🤔তুমি কোনটাকে বাছাই করবে⁉️

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ〖
 
✎বঙ্গানুবাদ:
【হে ঈমানদাররা! (দান গ্রহণকারী ব্যক্তি বা সংস্থাকে) খোটা ও (মনে) কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানগুলোর (সাওয়াব ও প্রতিদান) বিনাশ করে দিও না।】
🔰সূরা আল বাক্বারা, সূরা নং ২, আয়াত নং ২৬৪।
 
⇩শিক্ষাঃ
🔹যদি তুমি চাও, আখেরাতে তোমার বিপদের সময় তোমার দান কাজে আসুক,
🔸তাহলে দান করে ভুলে যাও যে, তুমি দান করেছো।
🔹কেননা, তুমি তো শুধু আল্লাহর কাছ থেকে পুরুস্কার আশা করছো।
🔸সুতরাং যাকে বা যাদেরকে তুমি সাহায্য করেছো
এ সাহায্যের কারণে তাদেরকে কখনো খোটা দিও না।
🔹এর ফলে তোমার সকল ভাল কাজ নষ্ট হয়ে যাবে।
🔸আর এ সাহায্যের কারণে তাদের সম্মান ও মর্যাদাকে হেয় করে কষ্টের কারণ হওয়া তো আরো সর্বনাশের কারণ।
সচেতন হও, জাগ্রত হও…

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〖إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ〗
 
🍃বঙ্গানুবাদ*:
【তোমাদের অভিভাবক একমাত্র আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং (ইমাম আলী) যারা ঈমান এনেছে, যারা নামায কায়েম করে এবং রুকু অবস্থায় যাকাত দান করে】
🔰সূরা আল মায়েদা, আয়াত নং ৫৫
 
⇩প্রেমিক হৃদয়ের অভিব্যক্তি:
হে আমার দয়ালু প্রভু!
আমরা তোমার দরগাহে অভিযোগ নিয়ে এসেছি
এমন সময়কালে…
যখন আমাদের দয়াল নবী আমাদের মাঝে নেই…
এবং আমাদের যামানার ইমাম অন্তরালে আছেন…
আর আমাদের শত্রুও অনেক…
আমাদের মাঝে ফেত্নার পরিমানও প্রচুর…
হে আমার আল্লাহ!
তোমার আধ্যাত্মিক ছোঁয়ার অভাবে আমরা কাতর…
আমাদের যামানার আলীকে পাঠিয়ে দাও…
রুকু অবস্থায় আমরা তার যাকাতের মুখোপেক্ষী…
[হে আল্লাহ! আমাদের ইমামের আগমন তরান্বিত করো]

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【আচ্ছা, মুমিনদের জন্যে এখনো কী সময় আসেনি যে, তাদের অন্তরগুলো আল্লাহর যিকিরে ভীত- কম্পিত ও নরম হয়ে উঠবে?】
🔰সূরা আল হাদীদ, সূরা নং ৫৭, আয়াত নং ১৬।
 
⇩ *অন্তরকে নরম করুনঃ*
💔 যে অন্তরকে গুনাহ শক্ত ও পাথর করে ফেলেছে
🌹সেই অন্তর আল্লাহর রহমতের বারিধারা টেনে আনতে পারে না
🌹পুনরায় দিলকে নরম করতে হবে…
🌦যেন খোদায়ী মাগফিরাতের বিন্দু বিন্দু বারি বর্ষণ অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে
🌹পুনরায় যেন প্রষ্ফুটিত হয়ে উঠে
এবং খোদায়ী ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে
💞 মনে রাখুন! আল্লাহর যিকির শক্ত দিলগুলোকে পুনরায় নরম করে দিতে পারে।
😍তাই, সর্বদা *”লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ”*- এর যিকির অর্থসহ উপলব্ধি করুন আর তা জিহ্বা দিয়ে প্রকাশ করুন…

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〖أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ〗
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【তারা কি জানে না যে, তাদের প্রকাশ্য ও গোপনীয় সব কিছু আল্লাহ জানেন?】
🔰সূরা আল বাক্বারা, সূরা নং ২, আয়াত নং ৭৭।
 
⇩ *ইয়া আল্লাহ!!*
সব সময় যেনো মনে থাকে যে,
তুমি আল্লাহর চোখের সামনেই আছো…
🔊কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়…

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〖أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ〗
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【(হে মানুষ!) তুমি কি অনুধাবন করো না, আকাশমন্ডলী ও যমিনের বুকে যা কিছু আছে আল্লাহ তা সবই জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ ব্যক্তি হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেন না। আর পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেন না। তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন। অত:পর তারা যা করেছে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিনে তা জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত।】
🔰〖 সূরা আল মুজাদিলাহ, সূরা নং ৫৮, আয়াত নং ৭।〗
 
⇩ *সতর্ক বাণীঃ*
🔸মনে থাকে যেনো!
🔸তোমার সকল চ্যাটে ও ব্যক্তিগত পেইজে তৃতীয় জন আছেন!!!
যিনি তোমার সকল লেখা ও তোমার পাঠানো সকল চিহ্নগুলো দেখেন…

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【হে ঈমানদাররা! (তোমাদের কাজের অগ্রগতির জন্যে) ধৈর্য-সবর (দৃঢ়তা) ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। (কেননা,) আল্লাহ অবশ্যই ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।】
 
✎ English:
『O you who have believed, seek help through patience and prayer. Indeed, Allah is with the patient.』
📚সূরা আল বাক্বারা, সূরা নং ০২, আয়াত নং ১৫৩।
 
*⇩শিক্ষাঃ*
❥✦নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী
↯↻↯↻↯
নামাজ বোঝা নয়….
বরং আপনার কাঁধ থেকে বোঝা তুলে নেয় এ নামাজ।
আপনাকে সাহায্য করে এ নামাজ…
যেনো জীবনের বোঝাগুলো খুব সহজেই আপনি স্থানান্তরিত করতে পারেন এবং লক্ষ্যে পৌছুতে পারেন…
আল্লাহ-ই তো বলেছেনঃ
“প্রতিটি সমস্যায় ধৈর্য ও নামাজের সাহায্য নাও।”
বিশ্বাস করুন! ধৈর্য ও নামাজ খোদায়ী মদদ ও সমর্থন অর্জনের মাধ্যম….
👊 যে কোন কাজে হতাশ না হয়ে লক্ষ্যের পানে পৌছার জন্যে প্রচেষ্টা এবং দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যান।
😭🙏লক্ষ্যমাত্রায় পৌছুতে নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাইতেও ভুলবেন না…

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗وَلَا تَيْأَسُوا مِنْ رَوْحِ الله… 〖
 
🍃 বঙ্গানুবাদঃ
【আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না…】
 
✎ English:
『And despair not of relief from Allah…』
🔰সরা ইউসুফ, সূরা নং ১২, আয়াত নং ৮৭।
 
⇩শিক্ষাঃ
প্রতিটি সকালে যে, আমি জেগে উঠি
সূর্যের জ্যোতি যে, আমাকে তোমার অফুরন্ত রহমতের মধ্যে অবগাহন করিয়ে দেয়
এবং প্রতিটি সন্ধ্যা, রহস্যজনক রাত্রির কালো অন্ধকার যে, আমাকে তোমার মহব্বতের কোলে টেনে নিয়ে যায়…
তাহলে কিভাবে আমি তোমার অপরিসীম দয়া ও অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হবো?!!
তুমি যে, দয়ালু
হে গুনাহগারদের দয়াল প্রভু!!!

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗وَاللَّهُ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَسْمَعُون. 〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【আল্লাহ আসমান থেকে বারি বর্ষণ করেন। তদ্বারা তিনি [=আল্লাহ] ভূমণ্ডলকে এর মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। এতে যে জনগোষ্ঠী কথা শোনে তাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।】
✎English:
『And Allah has sent down rain from the sky and given life thereby to the earth after its lifelessness. Indeed in that is a sign for a people who listen』
🔰সরা আন নাহ্-ল, সূরা নং ১৬, আয়াত নং ৬৫।
 
⇩উপদেশঃ
এ পৃথিবীর ভূমণ্ডল, বসন্তের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করে।
কিন্তু দয়াল মালিক বৃষ্টি বর্ষনের মাধ্যমে তাতে প্রাণ সঞ্চার করেন……
তদ্রুপ হে মানুষ! মনে করো না, তোমার মৃত্যুই তোমার সব কিছু শেষ,
বরং তোমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় তোমাদের জীবন দেয়া হবে,
ক্বিয়ামতের হিসাব নিকাশের জন্যে সকলের উপস্থিত হতে হবে……

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ ۖ 〖
✎বঙ্গানুবাদঃ
【হে ঈমানদাররা! তোমাদের নিজেদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা তোমাদের দায়িত্ব। 】
✎ English:
『O you who have believed, upon you is [responsibility for] yourselves』
🔰সরা আল মায়িদা, সূরা নং ৫, আয়াত নং ১০৫।
 
⇩উপদেশঃ
কখনো আমরা এতটাই দুনিয়াদারিতে ডুবে থাকি,
কখনো আমরা এতটাই দুনিয়ার রঙ্গ মঞ্চে নিজেকে হারিয়ে ফেলি,
কখনো আমরা এতটাই দুনিয়ার লোভনীয় ও মোহময় কৃত্রিম সৌন্দর্যে নিজেদেরকে বিস্মৃতির সাগরে তলিয়ে দিই যে,
❗️সত্যি সত্যিই নিজেদের দায়িত্যের কথা ভু্লে যাই।
তারপরো দয়াল প্রভু দয়াদ্র কণ্ঠে ও আমাদের ব্যাপারে দুশ্চিন্তগ্রস্থ স্বরে আমাদেরকে আমাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
হে আমার বান্দারা! তোমাদের নিজেদের দিকে খেয়াল রেখো কিন্তু,
✈️ঈমানের পাথেয় ও সামগ্রী শক্ত করে বেঁধে নিও,
সামনেই চীরস্থায়ী জগত পানে সফর রয়েছে!!!
✈️শিঘ্রী সফরের জন্যে প্রস্তুতি নাও………  

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〗وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ۖ〖
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【অনেক মানুষ আছে, যারা অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ জ্ঞান করে, তাদেরকে ঐরকম ভালবাসে, যেরকম ভালবাসা আল্লাহর সাথে হওয়া দরকার।】
 
✎ English:
『And [yet], among the people are those who take other than Allah as equals [to Him]. They love them as they [should] love Allah』
↯↻↯↻↯
🔰সরা আল বাক্বারা, সূরা নং ২, আয়াত নং ১৬৫।
 
⇩উপদেশঃ
🐉বিষধর সাপ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বিভিন্ন পোকা-মাকড় নিজের দিকে টেনে নেয়,
তবে তারা ঐসব প্রাণীদেরকে প্রশিক্ষণ ও গড়ার জন্যে কাছে টানে না,
বরং তাদেরকে গিলার জন্যে এবং ধ্বংস করার জন্যে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে……
⚠️দুনিয়ার রং-তামাশাও তদ্রুপ
যদি আপনার অন্তর এ দুনিয়াকে ভালবেসে তার দিকে আকৃষ্ট হয়ে যায়
তাহলে ধ্বংস ও পতন ছাড়া আপনার ভাগ্যে অন্য কিছু আশা করতে পারেন না।

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〖قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ〗
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【(হে নবী!) বলে দাওঃ “(হে মানুষ!) যে মৃত্যু থেকে তোমরা পলায়ন করছো সেই মৃত্যু তোমাদের সাথে সাক্ষাত করবেই। অতঃপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সকল কিছু সম্পর্কে পরিজ্ঞাত (আল্লাহর) দিকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে। তখন (আল্লাহ) তোমাদেরকে অবহিত করবেন, যা কিছু তোমরা (এ দুনিয়াতে) সম্পাদন করেছিলে।”】
✎ English:
『Say, “Indeed, the death from which you flee – indeed, it will meet you. Then you will be returned to the Knower of the unseen and the witnessed, and He will inform you about what you used to do』
↯↻↯↻↯
🔰সরা আল জুমুআ’,সূরা নং ৬২,আয়াত নং ০৮।
 
⇩উপদেশঃ
হে প্রভু!! হে দয়াময়!!
আমাকে দয়া করো!
আমি যেনো মৃত্যুর সময়
জীবন যাপনের নামে যে সময়গুলো বেহুদা অপচয় করেছি
সেই জন্যে শোকার্ত না থাকি…….
“আল্লাহুম্মা আমিন!!”

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 
〖وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ ۗ〗
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【(হে মানুষ!), তোমরা যে সকল নেক কাজ নিজেদের জন্যে আগেভাগে (আখেরাতের জীবনের শান্তির লক্ষ্যে) প্রেরণ করে থাকো তা আল্লাহর কাছে পাবে।】
✎ English:
『And whatever good you put forward for yourselves – you will find it with Allah.』
↯↻↯↻↯
🔰সূরা আল বাক্বারা, সূরা নং ০২, আয়াত নং ১১০।
 
⇩উপদেশঃ
কখনো ভাল ও নেক কাজে
ক্লান্ত হবেন না।
কেননা, সেই নেক কাজের সবটুকুই
আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে।
আপনার চিন্তার কোন কারণ নেই,
আখেরাতে দেখবেন
আপনার নেকীর পাল্লা ভারী হয়ে গেছে…….

•✦ আল্লাহর কালাম ✦•

بسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ 

〖فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ أَصْحابُ الصِّراطِ السَّوِيّ وَمَنِ اهْتَدي〗
 
✎বঙ্গানুবাদঃ
【বল,প্রত্যেকেই প্রতীক্ষা করছে, অতএব তোমরাও প্রতীক্ষায় থাকো। অতঃপর তোমরা শিঘ্রী জানতে পারবে যে, কারা সোজা দৃঢ়তার পথে আছে এবং কারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে।】
✎ English:
『Say, “Each [of us] is waiting; so wait. For you will know who are the companions of the sound path and who is guided”』
↯↻↯↻↯
🔰সরা ত্ব-হা,সূরা নং ২০,আয়াত নং ১৩৫।
⇩সাবধানঃ
❥✦ ক্বুরআনুল কারিমে ইমাম আলী আলাইহিস সালামের উপাধী
➊ صاحِبُ صِراطِ السَّوِی / সোজা দৃঢ়তার পথের পথিক!
ন্যায় ও সত্য এবং স্পষ্ট ও উজ্জ্বল পথ, যে পথ কখনো আঁকাবাঁকা হয় না।
 
⇩শিক্ষাঃ
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল বাক্বির আলাইহিস সালাম উক্ত আয়াতে কারিমা সম্পর্কে বলেছেনঃ
〖عَلِي صاحِبُ الصِّراطِ السَّوِيّ〗= আলী সোজা পথের অধিকারী।
【 আলী আলাইহিস সালাম সত্য ও স্পষ্ট পথের যাত্রী】
📚তাভিলুল আয়াত, পৃঃ নং ৩১৭।
↯↻↯↻↯

Related Post

মুবাহিলার আয়াত

Posted by - August 14, 2019 0
•✦✨ ‎بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ‎ ✨✦•‎ فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ…

বিসমিল্লাহ সম্পর্কে জানুন!

Posted by - August 17, 2019 0
•✦✨ আল্লাহর কালাম ✨✦• ❖✨ ﷽ ✨❖ ☑ বিসমিল্লাহ আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ও নির্ভরতার মূর্ত প্রতীক। ☑ বিসমিল্লাহ শয়তানকে বিতাড়িত…

সূরা ইউসুফ, আয়াত নং ৯৯

Posted by - August 16, 2019 0
•✦✨ ﷽ ✨✦• 〖 فَلَمَّا دَخَلُوا عَلَىٰ يُوسُفَ آوَىٰ إِلَيْهِ أَبَوَيْهِ وَقَالَ ادْخُلُوا مِصْرَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ〗 🔰 সূরা…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »