ওহী ও রেসালতের নবজাতক

745 0

নামঃ

ফাতেমা,সিদ্দীকা,মুবারিকাহ্,তাহিরাহ্,যাকিয়্যাহ্,রাযিয়্যাহ্,মারযিয়্যাহ্,মুহাদ্দিসাহ্,এবং যাহরা।১

ডাক নাম: উম্মুল হাসান,উম্মুল হুসাইন,উম্মুল মুহ্সিন,উম্মুল আয়েম্মা এবং উম্মে আবিহা।২

কিছু সুপরিচিত উপাধি: যাহরা,বাতুল,সিদ্দীকা,কুবরা,মুবারিকাহ্,আযরা,তাহিরা এবং সাইয়্যেদাতুন নিসা।৩

পিতা : ইসলামের মহা সম্মানিত রাসূল (সা.) হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ (সা.)।

মাতা : ইসলাম গ্রহণকারী সর্বপ্রথম নারী,আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সর্বপ্রথম স্ত্রী খাদীজাতুল কুবরা।

জন্ম : পবিত্র নগরী মক্কায়,নবুওয়াত লাভের পঞ্চম বছর।৪

শাহাদাত : পবিত্র মদীনা নগরী,হিজরী একাদশ বছর,রাসূলে খোদার ইন্তেকালের আড়াই মাস পর।৫

মাজার : রাজনৈতিক এবং তাঁর অসিয়তের কারণে অন্ধকার রাত্রে গোপনে আমিরুল মু’মিনীন তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করেন। আজ অবধি তাঁর পবিত্র কবরের চিহ্ন উদঘাটিত হয় নি।৬

সন্তান : ইমাম হাসান মুজতাবা,ইমাম হুসাইন সাইয়্যেদুশ শুহাদা,জয়নাব আল কুবরা,উম্মে কুলসুম,মুহ্সিন (তাঁর গর্ভেই মারা যায়)।৭
আরবি জমাদিউসসানী মাসের বিশ তারিখে রোজ শুক্রবার, মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের পঞ্চম বৎসরে, মক্কার প্রস্তরময় পর্বতের পাদদেশে, কা’বার সন্নিকটে, ওহী নাযিলের গৃহে- যে গৃহের অঙ্গন মহানবী (সা.)-এর খোদাপ্রেমিক মুখের পবিত্র ছটায় আলোকিত হতো, যে গৃহকে ফেরেশতারা ভাল করে চিনতো এবং সেখানে প্রতিনিয়ত গমনাগমন করতো, যেখানে সকাল সন্ধ্যায় রাসূলে খোদার নামাজের গুঞ্জরন প্রতিধ্বনিত হতো এবং গভীর রাত্রিতে তাঁর তিলাওয়াতের আধ্যাত্মিক ধ্বনিতে জমিনের সাথে আসমানের সংযোগ স্থাপিত হতো, ইয়াতিমদের আশার কেন্দ্র, নিঃস্ব মানুষের সাহায্যকারী, নির্দোষ বন্দী ও নিপীড়িতদের আশ্রয়স্থল, সেই গৃহে হযরত রাসূল (সা.) ও মা খাদিজার গৃহে একটি কন্যা জন্মগ্রহণ করে।
আল্লাহর রাসূলের দুহিতা, রিসালতের প্রথম ফল, নিষ্পাপত্বের প্রতিমূর্তি, সমগ্র মানবতা যে নারীর মধ্যে সমবেত হয়েছে, যিনি ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর মনোনীত খলীফার স্ত্রী এবং তাঁর সমকক্ষ বলে গণ্য, পৃথিবীর বুকে নারীকুলের শ্রেষ্ঠ সে-ই ফাতেমা ভূপৃষ্ঠে আগমন করেছেন।
হযরত ফাতেমার জন্মের ফলে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর গৃহ পূর্বের চেয়ে আরো অধিক দয়া ও স্নেহ-মমতার আধারে পরিণত হয়। যখন মহানবী (সা.) মক্কায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যে জর্জরিত ছিলেন তখন হযরত ফাতেমার অবস্থান সকাল ও সন্ধ্যায় ক্লান্ত-শ্রান্ত পিতা-মাতার উপর শান্তির সুবাতাস বয়ে দিত আর রিসালতের কষ্টপূর্ণ দিনগুলোর ক্লেশকে আরামদায়ক করে তুলতো। এটা কতই না উদ্দীপনাময় বিষয় যে,একটি মেয়ে পিতার নিকট এতটা মর্যাদা লাভে সক্ষম হয় যে,তাঁর নিকট সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষ মহানবী (সা.)-এর প্রশান্তি মেলে। আর তাঁর সম্পর্কে নবী (সা.) বলেন :
“ফাতেমা আমার প্রাণের সমতুল্য,তাঁর কাছ থেকে বেহেশতের সুঘ্রান পাই।”৮
এ উক্তিটি হযরত ফাতেমার জন্য আশ্চর্যজনক নয়। কেননা তিনি ঐ সমস্ত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে গণ্য যাদের ব্যাপারে বিশ্বপ্রতিপালক তাঁর আসমানী গ্রন্থ আল কোরআনে বলেন :
إِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ اْلْرِّجْسَ أَهْلَ اْلْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرًا
অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ চান হে আহলে বাইত,তোমাদের থেকে সকল ধরনের অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পুত-পবিত্র করতে।”৯
হযরত ফাতেমা (আ.) ইসলামের মহান নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর সার-সত্তা। হযরত ফাতেমা (আ.)-এর আলোকজ্জল জীবন সকল প্রকার ঐশী প্রশংসার যোগ্য। তিনি বিশ্ব নারীকুলের মধ্যে আল্লাহর নিকট মনোনীত হয়েছেন যিনি আপন পবিত্রতার মাধ্যমে নারী জাতিকে সম্মানের আসনে সমাসীন করেছেন। হযরত ফাতিমা (আ.)-এর অতি মর্যাদাকর অবস্থান এ সাক্ষ্য প্রদান করে যে একজন নারীও আধ্যাত্মিকতার চরম শীর্ষে আরোহন করতে পারেন যেখানে ঐশী মহাপুরুষেরা পৌঁছেছেন।

পিতার সাথে –

হযরত ফাতিমা (আ.)-এর পিতার ব্যাপারে কোন কিছু বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। তিনি এমন পিতা ছিলেন যাকে বিশ্বস্রষ্টা সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর পবিত্র কোরআনে তাঁর ব্যাপারে বলা হয়েছে :
وَ مَا يَنْطِقُ عَنِ اْلْهَوَى ! إِنْ هُوَ إِلاَّ وَحْىٌ يُوْحَى
অর্থাৎ “তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কোন কথা বলেন না। বরং (তার কথা) ওহী বৈ কিছু নয় যা তার উপর অবতীর্ণ হয়।”১০
ফাতেমা তাঁর জ্যোতির্ময় জীবনের সবটুকুই ওহীর সংস্পর্শে এবং মানবতার মূর্ত প্রতীক এমনই একজন পিতার ছায়াতলে অতিবাহিত করেন। প্রায় দুই বৎসর বয়সেই তিনি পিতার সাথে কাফেরদের বয়কট ও অবরোধের শিকার হন এবং তিন বৎসর ‘শে’বে আবি তালিব’১১ -এ ভীষণ ক্ষুধা যন্ত্রণা ও কষ্টের মধ্যে কাটান এবং পিতা-মাতা ও অন্যান্য মুসলমানদের সাথে ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। নবুওয়াতের দশম বৎসরে ‘শে’বে আবি তালিব’ থেকে মুক্তির কিছুদিন পরেই তিনি তাঁর সম্মানিত মাতাকে হারান, যিনি দশ বৎসর দুঃখ বেদনা বিশেষভাবে অর্থনৈতিক অবরোধের কষ্টের ভীষণ চাপের মুখে ধৈর্যধারন করে পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন।১২
হযরত ফাতেমা মাতৃ হারা হয়ে গেলেন। যদিও এ ব্যাপারটা তাঁর জন্যে সাংঘাতিক বেদনাদায়ক ও অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল তবে এ কারণে তিনি আরো বেশী করে পিতার পাশে থাকার এবং তাঁর প্রশিক্ষণের অধীনে থাকার সুযোগ পেলেন। আট বৎসর বয়সে রাসূল (সা.)-এর হিজরতের কিছু পরে তিনি নবী বংশের অন্যান্য নারীদের সাথে হযরত আলীর সঙ্গে মক্কা থেকে মদীনায় পৌঁছান।১৩ আর এভাবে আবারো তিনি পিতার পাশে অবস্থান গ্রহণ করেন। মদীনায় রাসূল (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন সম্যসার মুহূর্তে হযরত ফাতেমা পিতার সাথে ছিলেন। ওহুদ যুদ্ধে মুসলমানরা যখন পশ্চাদপসরণ করে পাহাড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় তখন হযরত ফাতেমা বিচলতার সাথে মদীনা থেকে রাসূল (সা.)-এর যুদ্ধ শিবিরে দৌড়ে আসেন এবং আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলীর সাথে তাঁর পিতার ক্ষতস্থান চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করেন।১৪
হযরত ফাতেমা (আ.) ইসলামের কোলে বড় হন। তিনি ছিলেন ইসলাম ও কোরআনের সাথী। তিনি ওহী ও নবুওয়াতের পবিত্র বাতাসে নিঃশ্বাস গ্রহণ করেছেন এবং এজন্য গর্ববোধ করতেন। তাঁর জীবন রাসূল (সা.)-এর জীবন থেকে পৃথক ছিল না। এমনকি বিবাহ পরবর্তী সাংসারিক জীবনেও তাঁর গৃহ রাসূল (সা.)-এর গৃহের সাথে সংযুক্ত ছিল। আল্লাহর নবী অন্যান্য সব গৃহ থেকে ফাতিমার গৃহে বেশী যাতায়াত করতেন। প্রতিদিন প্রভাতে মসজিদে গমনের পূর্বে তিনি হযরত ফাতেমার সাথে সাক্ষাৎ করতেন। ১৫ হ

রাসূল (সা.)-এর গৃহভৃত্য বলেন :
“হযরত যখন কোন সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেন তখন সর্বশেষ যার কাছ থেকে বিদায় নিতেন তিনি হলেন হযরত ফাতেমা এবং যখন তিনি সফর শেষে ফিরে আসতেন সর্বাগ্রে তাঁর সাথে দেখা করতেন।”১৬
অবশেষে রাসূল (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহুর্তগুলোতেও হযরত ফাতেমা তাঁর শিয়রের পাশে ক্রন্দনরত অবস্থায় কাটিয়েছেন। আর তখন রাসূল (সা.) তাকে প্রবোধ দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি অন্য সবার আগে তাঁর পিতার সাথে মিলিত হবেন।১৭

হযরত ফাতিমার মা

হযরত ফাতিমা শৈশবের পাঁচ বছর তাঁর সম্মানিতা ও আত্মোৎসর্গী মা হযরত খাদীজার কোলে লালিত পালিত হন। তিনি নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম মুসলমান হয়েছিলেন। তাঁর সম্বন্ধে নবী (সা.) বলেছেন :
“খাদীজা আমার উম্মতের সর্বোত্তম নারীদের অন্যতম।”১৮

হযরত খাদীজা রাসূল (সা.)-এর নিকট এতই সম্মানের পাত্রী ছিলেন যে তাঁর জীবদ্দশায় তিনি অন্য কোন বিয়ে করেন নি। হযরত খাদীজার ওফাতের পরও তিনি তাঁকে প্রচুর স্মরণ করতেন। এমনকি তিনি হযরত খাদীজার বন্ধু-বান্ধবদেরকেও সম্মানের চোখে দেখতেন। এ সম্মান এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যে যখন কেউ তাকে কোন কিছু উপহার দিতেন তখন তাকে বলতেন “এই উপহার অমুক মহিলার ঘরে নিয়ে যাও,কেননা সে খাদীজার বান্ধবী ছিল।১৯

হযরত আয়েশা বলেন : “রাসূল (সা.) এত বেশী খাদীজার কথা স্মরণ করতেন যে একদিন আমি প্রতিবাদ করে বললাম,হে আল্লাহর রাসূল,খাদীজা তো একজন বৃদ্ধা ব্যতীত অন্য কিছু ছিলেন না। আল্লাহ্ তার চেয়ে উত্তম স্ত্রী আপনাকে দান করেছেন। তখন রাসূলে আকরাম (সা.) রাগান্বিত হয়ে বললেন,আল্লাহর কসম,আল্লাহ তায়ালা তাঁর চেয়ে উত্তম কোন স্ত্রী আমাকে দান করেন নি। খাদীজা এমন সময় ইসলামের প্রতি ঈমান এনেছিল যখন সবাই কুফরের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল,সে এমন সময় আমার কথা সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল যখন অন্যেরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেছিল। খাদীজা এমন সময় তাঁর সর্বস্ব আমার কাছে অর্পণ করে যখন অন্য সবাই আমাকে বঞ্চিত করেছিল। আল্লাহ তায়ালা আমার বংশ তাঁর মাধ্যমেই অব্যাহত রেখেছেন।”২০

এটা ইসলামের ইতিহাসের একটি মহা বাস্তব। কেননা সত্যিকার অর্থে হযরত খাদীজার ত্যাগ নবী (সা.)-এর রেসালতের অগ্রগতির পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কোন কোন মনীষীর মতে :
“ইসলাম এবং মহানবী (সা.)-এর মিশন হযরত আলীর জিহাদ আর হযরত খাদীজার দানের মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা এ দুই মহান ব্যক্তিকে তাঁর রাসূলের প্রধান সহযোগী হিসেবে মনোনীত করেছেন। হযরত আলীর জিহাদ এবং হযরত খাদীজার দান ইসলামের বিজয় ও প্রসারের ক্ষেত্রে দু’টি প্রধান কারণ ছিল। সর্বকালে বিশ্বের সকল মুসলমান ঈমানের ন্যায় মহানেয়ামতের জন্যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর পরে এ দুই ব্যক্তির নিকট ঋণী।
হ্যাঁ,হযরত ফাতিমা এমনই এক মাতার স্মৃতিচিহ্ন আর এমনই এক পিতার সন্তান। নবুওয়াতের দশম বৎসরে হযরত খাদীজার ওফাতের পর চিরকালের জন্যে প্রিয় ও ত্যাগী মাতার স্নেহভরা কোল হযরত ফাতেমার হাতছাড়া হয়ে যায়।”২১ আর তখন থেকেই শিশু ফাতিমা নবী পরিবারে তাঁর মায়ের শুন্য স্থান পূরণ করেছেন।

মদীনায় হিজরত

যে বৎসর হযরত খাদীজার ইন্তেকাল হয় সে বৎসরেই নবী (সা.) তাঁর নিবেদিত প্রাণ চাচা ও অন্য আরেকজন বড়পৃষ্ঠপোষক আবু তালিবকেও হারান।২২ জনাব আবু তালিব রাসূল (সা.)-এর সবচেয়ে অন্তরঙ্গ সাথি ছিলেন। কোরাইশদের নেতা ও মক্কার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে মক্কাবাসী ও কোরাইশদের উপর প্রভাব থাকায় তিনি নবী (সা.) ও মুসলমানদের জন্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক বলে গণ্য হতেন। আর সে জন্যে তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন কোরাইশ কাফেররা কখনই মহানবী (সা.)-এর দিকে হস্ত প্রসারিত করতে পারে নি।২৩
হযরত আবু তালিব তাঁর সমগ্র জীবনে কখনো রাসূল (সা.)-এর সেবা ও তাঁকে সমর্থন দানের ক্ষেত্রে ত্রুটি করেন নি এমনকি কোরাইশদের চক্রান্তের মোকাবেলায় এক শক্ত প্রাচীর হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে নিজের ঈমান ও ইসলাম গ্রহনকে গোপন করে রেখেছিলেন।২৪
তিনি মুশরিকদের নিকট বাহ্যিক ভাবে দেখাতেন আত্মীয়তার কারণে মুহাম্মদকে সহায়তা দান করেন। হযরত আবু তালিবের এ ধরণের কর্ম-কৌশলের কারণে কোরাইশরা তাকে নিজেদের লোক বলে মনে করতো এবং তাঁর ভয়ে ও সম্মানের কারণে তারা নবী (সা.)-কে হত্যা করার কোন পরিকল্পনা হাতে নিতে পারে নি। আর এভাবে আত্মত্যাগ ও ঈমান গোপন করার কারণে মুসলমানদের বিভিন্ন ফের্কার আনাড়ী আলেমরা আবু তালিবের ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে থাকেন এবং যিনি আপাদমস্তক ঈমান ও ত্যাগের মহীমায় বলীয়ান ছিলেন তাকে শিরক ও কুফরের মত জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক অপবাদ দিতে কুন্ঠাবোধ করেন নি।২৫
হ্যাঁ,হযরত আবু তালিবের মৃত্যুর সাথে সাথে রাসূল (সা.)-এর জন্য দায়িত্ব পালন আরো বেশী কঠিন হয়ে যায় এবং কোরাইশদের অত্যাচার ও নির্যাতনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পায়। আর তা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যে তারা রাসূলে খোদার প্রাণনাশের পরিকল্পনা করে এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে বিভিন্ন গোত্র থেকে লোকজন নিয়ে হযরত মুহাম্মদের (সা.) গৃহ ঘেরাও করে অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়ে হযরতকে হত্যা করা হবে। আর এভাবে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হত্যার দায়ভার সকল গোত্রের উপর বর্তাবে এবং নবীর আত্মীয়-স্বজন ও বনি হাশেম গোত্রের লোকেরা রক্তের বদলা নিতে সমর্থ হবে না। পরিশেষে তারা (বনি হাশেম) রক্তের মূল্য গ্রহণে বাধ্য হবে।২৬
এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় নবী (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে হিজরতের আদেশপ্রাপ্ত হন।২৭
এর আগে ইয়াসরেবের গণ্যমান্য ও সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ নবী (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন যে যদি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ইয়াসরেবে (মদীনা) আসেন তাহলে তারা তাদের জান-মাল ও লোকবল দিয়ে নবী (সা.) ও ইসলামের সমর্থন করবেন। আর নবী (সা.) এই চুক্তিকে সামনে রেখেই মক্কার কোরাইশ কাফেররা যে রাতে তাঁর প্রাণনাশের চক্রান্ত করে সে রাত্রেই মক্কা ত্যাগ করেন এবং হযরত আলী নবী (সা.)-এর বিছানায় শুয়ে থাকেন। এভাবে কোরাইশ কাফেররা নবীর গৃহে আক্রমন করে হযরত আলীর সম্মুখীন হয়।২৮
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বারো দিন পর মদীনার নিকটবর্তী কোবা নামক স্থানে পৌঁছান। হযরত আলী যেন তাঁর সাথে যোগ দিতে পারেন সে জন্যে তিনি সেখানে যাত্রাবিরতি করেন।২৯
হযরত আলী মক্কায় কয়েকদিন অবস্থান করে নবী (সা.) কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে হযরত ফাতেমা ও নবী পরিবারের কয়েকজন নারীকে সাথে নিয়ে মদীনার পথে যাত্রা শুরু করেন।৩০
পথিমধ্যে মুশরিকদের মাধ্যমে বাধাগ্রস্থ হলে হযরত আলী তলোয়ার হাতে তুলে নেন। তিনি আক্রমণকারীদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেন আর অন্যরা পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। হযরত আলী কয়েকদিন পরে নবী করীমের সাথে যোগ দেন। তারপর তিনি রাসূল (সা.)-এর সাথে মদীনা নগরীতে প্রবেশ করেন।৩১

Related Post

হযরত ফাতেমা (আ.)-এর শাহাদাত

Posted by - February 3, 2020 0
মহানবী (সা.) ইন্তেকালের পর বিভিন্ন রকম দুঃখ-কষ্ট হযরত ফাতেমার অন্তরে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ তাঁর জীবনটাকে তিক্ত…

হযরত ফাতেমার স্বর্গীয় ব্যক্তিত্ব

Posted by - January 30, 2020 0
নারীকুলের শ্রেষ্ঠ রমণী হযরত ফাতেমার স্বর্গীয় ব্যক্তিত্ব আমাদের উপলব্ধি ক্ষমতার ঊর্দ্ধে এবং আমাদের সকলের প্রশংসার চেয়ে বেশী সম্মানিত। তিনি এমনই…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »