আল ওয়াক্বিয়া সম্পর্কে সামগ্রিক কিছু তথ্য

966 0

 সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” সম্পর্কে সামগ্রিক কিছু তথ্য:

✅১। কোরআনের বর্তমান উসমানী মুসহাফ-এর ক্রমিক নম্বর অনুসারে এ সূরাটি ছাপ্পান্নতম।
✅২। নাযিল হওয়ার ধারাবাহিকতা অনুসারে এ সূরাটি ছিচল্লিশ নম্বরে অবস্থিত।
✅৩। নাযিলের স্থানটি হচ্ছে পবিত্র মক্কা নগরী।
✅৪। আয়াতের সংখ্যা ৯৬।
✅৫। এ সূরাটির অভ্যন্তরে অবস্থিত শব্দ সংখ্যা ৩৭৮।
✅৬। এ সূরাটির অভ্যন্তরে মোট বর্ণ ব্যবহৃত হয়েছে ১৭০৩টি।
✅৭। সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এর অর্থঃ
“আল ওয়াক্বিয়া” মূলতঃ উক্বু’ (وقوع) শব্দ থেকে উদ্গত এবং “যা সংঘটিত হবে”- অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ শব্দ থেকে “ক্বিয়ামতের মহা বিষ্ময়কর ঘটনা” বুঝানো হচ্ছে। 
✅৮। সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এর বৈশিষ্ট্যঃ
এ সূরার ৭৫ নং আয়াতে নক্ষত্রসমূহের অবস্থানের উপর কসম খাওয়া হয়েছে যা বিজ্ঞানের প্রকৃত সত্যতা এবং জগতের সৃষ্টি রহস্যসমূহের অন্যতম। আর তা নিশ্চয় তাওহীদ ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত বহন করে।

✅৯। সামগ্রিকভাবে সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এর আলোচ্য বিষয়ঃ

✍️একঃ ক্বিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে।
✍️দু্ইঃ হাশরের মাঠে মানুষের মাঝে বিভিন্ন বিভক্তির উপস্থিতি।
✍️তিনঃ বিজ্ঞানের কিছু শাস্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত।
✍️চারঃ কোরআনের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ বিষয়ে পৌছার জন্যে পবিত্রতা অর্জন জরুরী। যদিও ফিক্বাহ শাস্ত্রবিদরা এই আয়াত অবলম্বনে ফতোয়া দিয়ে থাকেন যে, কোরআন স্পর্শ করার জন্যে পরিত্রতা (ওযু বা গোসল) জরুরী।
✍️পাঁচঃ পুনরুত্থান এবং ক্বিয়ামত বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ের বিবরণ।
✍️ছয়ঃ আল্লাহর প্রশংসা, মহিমা ও পবিত্রতার ঘোষণা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

✅১০। সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এর শানে নুযুলঃ

ইবনে নাদিম রচিত “তারিখুল কুরআন” নামক কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” আল্লাহর রাসূলের উপর নাযিলকৃত চুয়াল্লিশ নম্বর সূরা, যা সূরা ত্ব-হা-এর পূর্বে এবং সূরা “আশ শুআ’রা”-এর পরে অবতীর্ণ হয়েছিল। এ সূরার আলোচনার সূর থেকে অনুমান করা যায় এবং তফসীরবিদরাও সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এ সূরা মক্কায় নাযিল হয়েছে। যদিও কেউ কেউ বলেছেন, এ সূরার ৮১ ও ৮২ নং আয়াত মদিনাতে নাযিল হয়েছে। কিন্তু এ কথার স্বপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। অথবা এ দাবীর স্বপক্ষে উক্ত আয়াতদ্বয়ে কোন দিক নির্দেশনাও নেই। যাই হোক, সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” –এর নাম থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এ সূরা ক্বিয়ামত ও তার বৈশিষ্ট্য নিয়েই কথা বলবে। আর এ বিষয়টি পুরো ৯৬ টি আয়াতেই প্রধান বিষয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। 

✅১১। সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এ অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তুসমূহঃ

✍️একঃ ক্বিয়ামতের আবির্ভাব এবং সে সময়ে অত্যন্ত কঠিন ও ভয়ংকর ঘটনাবলীর বর্ণনা।
✍️দু্ইঃ সেই দিনে মানুষের বিভিন্ন দলে বিভক্তি, যা হবে “ভাগ্যবানদের দল”, “হতভাগাদের দল” ও “নৈকট্যপ্রপ্তদের দল”।
✍️তিনঃ বেহেস্তে নৈকট্যপ্রাপ্তদের মর্যাদা এবং তাদের বিভিন্ন প্রকার পুরুস্কার সমন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা।
✍️চারঃ প্রথম দল ও তাদের উপর আল্লাহর দয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে। 
✍️পাঁচঃ “হতভাগা ও বাম দিকের দল” এবং জাহান্নামে তাদের উপর অর্পিত ভয়ানক আযাবের আলোচনা। 
✍️ছয়ঃ আল্লাহর ক্ষমতা, বীর্য দিয়ে মানুষ সৃষ্টি, বৃক্ষরাজীতে প্রাণের সঞ্চালন, বৃষ্টি বর্ষণ ও অগ্নি প্রজ্বলন, যা তাওহীদের নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে, এর মাধ্যমে পুনুরুত্থান সম্পর্কে বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন।
✍️সাতঃ মানুষের জীবন আয়ুর শেষ প্রান্ত এবং ইহকাল থেকে পরকালে স্থান পরিবর্তন, যা নিজেই পুনরুত্থান কালের একটি অবস্থা, এ বিষয়টিকে সুন্দরভাবে চিত্রায়ন করা হয়েছে।
✍️আটঃ অবশেষে এ সূরার অন্য একটি অংশে 
অপর সার সংক্ষেপ হচ্ছে, মুমিনদের পুরস্কার আর কাফেরদের শাস্তি এবং অবশেষে সূরাটিকে মহান প্রতিপালকের নাম দিয়েই ইতি টানা হয়েছে।

১২। সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এর ফজিলতঃ

• রাসূল(সা.): “যে ব্যক্তি সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” তিলাওয়াত করবে, তার জন্যে লেখা হবে যে, সে গাফেলদের মধ্যে গণ্য নয়।” (মাজমাউল বায়ান, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৩৫৫)।
• সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” এমন সব সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যার মধ্যে ক্বিয়ামতের বর্ণনা এসেছে এবং যা আল্লাহর রাসূলের দ্রুত বার্ধক্যে পৌছার কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল(সা.)-কে জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কেন এত দ্রুত বৃদ্ধ হয়ে গেছেন? উত্তরে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেনঃ “সূরা হুদ, আল ওয়াক্বিয়া, আল মুরসালাত ও নাবা আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে।” (আল আমালী, হযরত শেইখ সাদুক রাহমাতুল্লাহ আলাইহি, পৃঃ নং ৩০৪)।
• হযরত ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল বাক্বির আলাইহিস সালামঃ “যদি কেউ প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”পাঠ করে সে এমন অবস্থায় আল্লাহর দিদারে গমনে করবে (মৃত্যুবরণ করবে) যখন তার চেহারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় আলোকজ্জ্বোল হয়ে যাবে।” (সাওয়াবুল আ’মাল, পৃঃ নং ১১৭)
• হযরত ইমাম জাফার ইবনে মুহাম্মাদ আস সাদিক্ব আলাইহিস সালামঃ “যে ব্যক্তি জান্নাত ও তার অভ্যন্তরের নেয়ামতসমূহ উপভোগে আগ্রহী সে যেন সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”পাঠ করে। ”
(সাওয়াবুল আ’মাল, পৃঃ নং ১১৭)

১৩। সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এর মাধ্যমে তদবীর:

• একঃ অভাব অনটন দূর হয়ে যাবেঃ
যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” তিলাওয়াত করবে তার কোনদিন অভাব অনটন হবে না। হযরত রাসূল(সা.)- এরশাদ করেছেনঃ “সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” তোমাদের নারীদেরকে শিক্ষা দাও। কেননা, এ সূরা সকল অভাব অনটন দূর করে দেয়।” (কানযুল উম্মাল, খণ্ড ১, পৃঃ নং ২৬৪)।
ইতিহাসে একটি চমকপ্রদ ঘটনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ) সমন্ধে বর্ণিত হয়েছেঃ
“একদা আল্লাহর রাসূলের বিশিষ্ট্য সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ) ঘোরতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তৎকালীন খলীফা উসমান ইবনে আফওয়ান তাঁর সাক্ষাতে গমন করেন এবং তাঁর চেহারায় কষ্টের ছাপ দেখতে পেল। তৃতীয় খলীফা তাঁকে জিজ্ঞেস করে, আপনি কেন উদ্বিগ্ন এবং মনকষ্টে আছেন?
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদঃ “আমি গুনাহগার।”
খলীফা উসমানঃ “আপনি কী চান?”
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদঃ “আল্লাহর রহমত।”
খলীফা উসমানঃ “আপনার কী চিকিৎসকের প্রয়োজন আছে?”
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদঃ “মূল চিকিৎসক নিজেই আমাকে অসুস্থ করেছেন।”
খলীফা উসমানঃ “আমি কী আপনাকে অর্থনৈতিক সাহায্য করতে পারি?”
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদঃ “যখন আমার প্রয়োজন ছিল তখন আপনি দেন নাই আর এখন আমার প্রয়োজন নাই।”
খলীফা উসমানঃ “অর্থনৈতিক সাহায্য করতে চাই যেন আপনার মেয়েদের জন্যে তা ব্যবহার হয়।”
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদঃ “তাদের কোন প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদেরকে বলেছি, তারা যেন প্রতিদিন সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” তিলাওয়াত করে। আমার হাবীব হযরত রাসূল (সা.) আমাকে বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” তিলাওয়াত করবে তার জীবনে কখনো অভাব থাকবে না।” (মাজমাউল বায়ান, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৩৫৫)।
• দুইঃ বরকত অর্জনঃ
হযরত রাসূল(সা.): “যদি কেউ সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” লিখে ঘরে রেখে দেয় তাহলে তার ঘরে বরকত ও কল্যাণ বৃদ্ধি পাবে। আর যে ব্যক্তি এ সূরা অব্যাহতভাবে প্রতিদিন তিলাওয়াত করে যায় তাহলে অভাব অনটন তার কাছ থেকে দূরে চলে যায় এবং এ সূরাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিদ্যমান রয়েছে।” (আল বুরহান ফি তাফসিরিল ক্বুরআন, খণ্ড ৫, পৃঃ নং ২৪৯)। 
• তিনঃ প্রিয়ভাজন হওয়াঃ
হযরত ইমাম জাফার ইবনে মুহাম্মাদ আস সাদিক্ব আলাইহিস সালামঃ “যে ব্যক্তি প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সূরা “আল ওয়াক্বিয়া” তিলাওয়াত করবে আল্লাহ তাকে ভালবাসবেন এবং সকলের প্রিয়ভাজন করে দিবেন। আর দুনিয়াতে কখনো তাকে কষ্ট ও অভাব স্পর্শ করতে পারবে না এবং সে আমিরুল মুমিনিন আলী (আঃ)-এর সাথী ও বন্ধু হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা, এ সূরা আমিরুল মুমিনিন-এর জন্যে নির্দিষ্ট, কেউ এর মধ্যে শরীক নেই।” (সাওয়াবুল আ’মাল, পৃঃ নং ১১৭)
• চারঃ সহজ মৃত্যু ও মৃতদের ক্ষমাঃ
হযরত ইমাম জাফার ইবনে মুহাম্মাদ আস সাদিক্ব আলাইহিস সালামঃ “সূরা আল ওয়াক্বিয়া-এর মধ্যে অফুরন্ত উপকারীতা ও লাভ বিদ্যমান, যা গণনা করা যায় না। তার অন্যতম হচ্ছে যে, যদি কোন মৃত ব্যক্তির জনে পড়া হয় তাহলে আল্লাহ সেই মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন। আর যদি মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির জন্যে পড়ে তাহলে আল্লাহর অনুমতিতে মৃত্যু তার জন্যে সহজ হয়ে যাবে।” (আল বুরহান ফি তাফসিরিল ক্বুরআন, খণ্ড ৫, পৃঃ নং ২৫০)। 
• পাঁচঃ সহজে সন্তান প্রসবঃ
“সূরা আল ওয়াক্বিয়া লিখে সঙ্গে রাখলে সন্তান প্রসব সহজ হয়।” (মিসবাহুল কাফহামী, পৃঃ নং ৪৫৮)।

১৪। সূরা “আল ওয়াক্বিয়া”-এর উপর আমলঃ

• একঃ নেক হাজত পূরণ ও কর্জ পরিশোধের জন্যেঃ
“চল্লিশ রাত, প্রতি রাতে একবার করে সূরা আল ওয়াক্বিয়া, মুযযাম্মিল, লাইল ও ইনশিরাহ পড়া। আর তিলাওয়াত শেষে নিচের দোয়া পড়া, যার ফলাফল পরীক্ষিতঃ
«یا رازق السائلین، یا راحم المساکین، یا ولی المؤمنین، یا غیاث المستغیثین، یا ارحم الراحمین، صل علی محمد و آل محمد واکفنی حلالک عن حرامک و بطاعتک عن معصیتک و بفضلک عمّن سواک، یا اله العالمین و صلی الله محمد و آله اجمعین»
(দারমন ব কোরআন, পৃঃ নং ১১১)। 

• দুইঃ রিযিক বৃদ্ধির জন্যেঃ
“শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শুরু করে প্রতি রাতে তিনবার করে পড়তে হবে। আর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শুধু আটবার পড়বে। এই আমল পাঁচ সপ্তাহ পর পর করতে হবে। আর প্রতিবার সূরা তিলাওয়াতের পূর্বে নিচের দোয়াটি পড়বেঃ
«اللهم ارزقنا رزقاً حلالاً طیّباً من غیرک استجب دعوتنا من غیر رد و اعوذ من الفضیحتین الفقر و الدّین و ادفع عنّی هذین بحق الامامین الحسن و الحسین علیهما السلام برحمتک یا ارحم الراحمین» 
(দারমন ব কোরআন, পৃঃ নং ১১১)। 
↯↻↯↻↯

Related Post

সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা

Posted by - February 15, 2022 0
হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামঃ ✍️“সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতকারী আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান আখ্যায়িত হয়ে থাকেন। সূরা ইয়াসিন…

সূরা আল কাফিরুন

Posted by - August 15, 2020 0
সূরা “আল কাফিরুন” সম্পর্কে সামগ্রিক কিছু তথ্য ১। কোরআনের বর্তমান উসমানী মুসহাফ এর ক্রমিক নম্বর অনুসারে এ সূরাটি একশত নয়তম।…

সূরা “সূরা “আল ক্বামার” সম্পর্কে সামগ্রিক কিছু তথ্য:

Posted by - December 16, 2019 0
📚✳️ সূরা “আল ক্বামার” সম্পর্কে সামগ্রিক কিছু তথ্য: ✅১। কোরআনের বর্তমান উসমানী মুসহাফ-এর ক্রমিক নম্বর অনুসারে এ সূরাটি চুয়ান্নতম। ✅২।…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »