হাদিসের দৃষ্টিতে খুমস

154

❇️ সার সংক্ষেপঃ

কুরআনে খুমসের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। আহলে বাইত (সা.)-এর বর্ণনায় খুমস আদায়ের খুটিনাটি বিবরণ ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা তাদের অনুসারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছেন এবং তাঁদের কিছু বর্ণনায় খুমস ফরয হওয়ার কারণ ও দর্শনও আলোচনা করা হয়েছে। আর ঐসব বর্ণনায় খুমস না দেওয়ার কিছু নেতিবাচক প্রভাবের কথাও বলা হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে, হযরত রাসূল (সা.)-এর পবিত্র আহলে বাইতের কিছু হাদিস উপস্থাপন করছি।

✅ইমাম মুসা আল-কাযিম (আঃ) বলেছেন:
«لقد یسر اللّه على المؤمنین ارزاقهم بخمسه دراهم جعلوا لربّهم واحداً واکلوا اربعه حلالا ثم قال هذا من حدیثنا صعب مستصعب لایعمل به ولا یصبر علیها الا ممتحن قلبه للایمان»
✍️”আল্লাহ মুমিনদের জন্য পাঁচ দিরহাম রিযিক অর্জন করা সহজ করে দিয়েছেন। কেননা, তারা তাদের পালনকর্তার জন্য এক দিরহাম নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং বাকি চার দিরহাম হালালভাবে ভোগ করেছেন।” অতঃপর ইমাম বললেন, “আমাদের এই হাদীসের উপর আমল করা কঠিন হবে। কেবলমাত্র তারাই আমল ও ধৈর্য ধারণ করতে পারবে যারা তাদের হৃদয়কে ঈমানের পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুত করেছে।”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৪৮৪।

✍️অর্থাৎ ইমাম (আ.) বলছেন, রিযিক হালাল করার জন্য খুমস আদায় করো। অতঃপর তিঁনি বললেন, এটি একটি কঠিন বাক্য যা পরীক্ষিত ঈমানদার ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ এর উপর আমল করতে পারবে না।
☆☆☆☆☆☆☆

✅খুমস আদায় না করা, শিরক ও মানুষ হত্যার মত, সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইমাম জা’ফর আস্ সাদিক্ব (আ.) বলেছেন:
«اکبر الکبائر سبع: الشرک والقتل واکل اموال الیتامى و عقوق الوالدین و قذف المحصنات و الفرار من الزحف وانکار ما انزل اللّه»،
✍️”কবিরা গুনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে সাতটিঃ শিরক, হত্যা, এতিমের সম্পদ গ্রাস করা, পিতামাতার অবাধ্যতা, সতী নারীদের অপবাদ দেওয়া, হামাগুড়ি দিয়ে পলায়ন করা এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অস্বীকার করা।”
অতঃপর তিঁনি বললেনঃ “আর এতিমদের সম্পদ ভক্ষন করার অর্থ আমাদের অধিকার খর্ব করা যা তারা আমাদের কাছ থেকে ছিনতাই করে খেয়েছে।”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৫৩৬।
☆☆☆☆☆☆☆

✅ইমামুয্ যামান (আ.) বলেছেনঃ
«لعنه اللّه والملائکه والناس اجمعین على مَن استحلّ من مالنا درهماً»
✍️”যে ব্যক্তি আমাদের সম্পদের এক দিরহামকে হালাল মনে করে ভোগ করে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হবে।”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৫৪১।

✅অন্য এক বর্ণনায় তিঁনি বলেন,
«و نحن خصمائه»
“আমরা এরকম লোকদের শত্রু”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৫৪০।
☆☆☆☆☆☆☆

✅ইমাম আমিরুল মুমিনিন আলী আলাইহিস সালাম বলেছেন,
«هلک الناس فى بطونهم و فروجهم لانهم لم یؤدوا الینا حقّنا»
✍️”মানুষ আমাদের অধিকার দেয় না বলে তাদের খাদ্য ও যৌন মিলন অপবিত্র হয়ে তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে যায়।”
📚আল ওয়াফি, খণ্ড ১০, পৃঃ নং ৩৩৭।
☆☆☆☆☆☆☆

✅কিছু হাদীসে আমরা পড়ে থাকিঃ
«من استحل منها شیئاً فامسکه فانما یاکل النیران»
✍️”যে ব্যক্তি খুমসের কিছু অংশ নিজের জন্য হালাল মনে করে তা পরিশোধ না করে, সে যেন আগুন ভক্ষন করছে।”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৫৫০।
☆☆☆☆☆☆☆

🔊আহলে বাইতের ইমামদের প্রকৃত সাহাবীরা এই বিষয়টিকে এমনভাবে বিশ্বাস করতেন যে, “খুমস প্রদান না করা হারাম খাওয়া এবং নামায ও রোযা কবুল না হওয়ার সমান। আর তাদের লিখিত প্রশ্নে তারা ইমামদের কাছে জিজ্ঞেস করতেন কিভাবে খুমস প্রদান করবেন যাতে তারা হারাম ভক্ষণকারী এবং যাদের সালাত ও সওম কবুল হয় না তাদের মধ্যে গণ্য না হন।”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৫০৩।
☆☆☆☆☆☆☆☆

✅ইমাম বাক্বির (আঃ) বলেছেনঃ
✍️”একজন মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে এতিমের সম্পদ ভক্ষন করা।” তারপর ইমাম বললেনঃ “আমরা এতিম।” অর্থাৎ খুমস আদায় না করার অর্থ এতিমের মাল ভক্ষন করা।
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৪৮৩, ৫৩৬।
☆☆☆☆☆☆☆☆

🔊অন্য এক হাদিসে আমরা পড়ে থাকিঃ ✍️”কিয়ামতের দিন মানুষের সবচেয়ে কঠিন অবস্থার একটি হলো খুমস ত্যাগকারীদের অবস্থা।”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৫৪৫।
☆☆☆☆☆☆☆☆

✅একটি হাদিসে আমরা এভাবে পড়েছিঃ
«الدنیا و ما فیها للّه و رسوله و لنا فمن غلب على شیى ء منها فلیتّق اللّه و لیؤدّ حقّ اللّه و لیتبرّ اخوانه فان لم یفعل ذلک فاللّه و رسوله و نحن براء منه»
✍️”যে ব্যক্তি দুনিয়ার ধন-সম্পদ লাভ করে সে যেন তাকওয়া অবলম্বন করে এবং আল্লাহর হক আদায় করে। আর তার মুমিন ভাইদের সাথে সদাচরণ করে এবং যদি সে তা না করে তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং আমরা আহলে বাইত তাকে ঘৃণা করবো।”
📚আল ওয়াফি, খণ্ড ১০, পৃঃ নং ২৮৯।
☆☆☆☆☆☆☆☆☆

✅ইমাম আলী ইবনে মুসা আর রিদ্বা আলাইহিস সালাম বলেছেনঃ
«ان الخمس عوننا… فلا تزووه عنّا ولا تحرموا انفسکم دعاءنا ما قدرتم علیه»
✍️”খুমস আদায়ের মাধ্যমে আমাদেরকে সাহায্য করা হয়। এটাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিও না যাতে তুমি আমাদের দোয়া থেকে বঞ্চিত না হও।”
📚আল ওয়াফি, খণ্ড ১০, পৃঃ নং ৩৩৪।
☆☆☆☆☆☆☆

✅ইমামুয্ যামান (আ.) বলেছেনঃ
«فلا یحلّ لاحد ان یتصرف فى مال غیره بغیر اذنه فکیف یحل ذلک فى مالنا من فعل شیئاً من ذلک لغیر امرنا فقد استحل منا ما حرم علیه و من اکل من مالنا شیئا فانما یأکل فى بطنه نارا»
✍️”যদিও অন্যের সম্পত্তি দখল করার অধিকার কারো নেই, তারপরো মানুষ কীভাবে আমাদের সম্পত্তি দখল করে নেয়? যে ব্যক্তি আমাদের আদেশ ব্যতীত আমাদের সম্পত্তি হস্তগত করলো সে পাপ করলো এবং যে ব্যক্তি আমাদের সম্পদের সামান্য একটু ভক্ষন করলো সে যেন তার পেটে আগুন প্রবেশ করালো।”
ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৫৪১।
☆☆☆☆☆☆☆☆☆

✅আমরা হাদিসের বর্ণনায় এভাবে পড়ে থাকিঃ
«لا یعذر عبد اشترى من الخمس شیئاً ان یقول ربّ اشتریته بمالى حتّى یأذن له اهل الخمس»
✍️”যে ব্যক্তি খুমস থেকে কিছু ক্রয় করে তার ওজর গৃহীত হয় না, যতক্ষণ না খুমসের মালিকেরা অনুমতি দেয়।”
📚আল ওয়াফি, খণ্ড ১০, পৃঃ নং ৩৩৭।
☆☆☆☆☆☆☆☆

✅ইমাম মুহাম্মাদ আল্ বাক্বির আলাইহিস সালাম বলেছেনঃ
✍️”খুমস আদায় না করে সম্পত্তি ক্রয় করা কারো জন্য বৈধ নয়। তবে আমাদের অধিকার আমাদের কাছে পৌছিয়ে দেয়ার পর কোন আপত্তি নেই।”
📚ওয়াসায়িলুশ্ শিয়া’, খণ্ড ৯, পৃঃ নং ৪৮৪।
☆☆☆☆☆☆☆☆☆

🔊”যদি মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা জানে যে, সেই মৃত ব্যক্তি তার সম্পত্তির খুমস আদায় করেনি, তাহলে উত্তরাধিকারীদের উচিত অন্যান্য ঋণের মতো সর্বাগ্রে ঐ সম্পত্তির খুমস পরিশোধ করা।”
📚উরওয়াতুল উসক্বা, কিতাবুল খুমস, মাসআলা নং ৫০।
↯↻↯↻↯
🌐 *ইমামিয়া পাক দরবার শরীফ*

Related Post

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Translate »