সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা

1400

হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামঃ

✍️“সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতকারী আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান আখ্যায়িত হয়ে থাকেন। সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতকারীর জন্যে এই সূরা শাফায়াত করবে, সকল অমঙ্গল দূরীভূত করবে এবং সকল হাজত পূরণ করে দিবে। সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতের পুরুস্কার হচ্ছে বিশবার হজ্জ্বের সাওয়াব। এই সূরার তিলাওয়াত শ্রবনকারীর জন্যে রয়েছে হাজার দিনার স্বর্ণমুদ্রা দান করার সমান সাওয়াব।”
📚 মাজমাউল বায়ান ফি তাফসীরিল ক্বুরআন, খণ্ড ৮, পৃঃ নং ২৫৪।

হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামঃ
✍️“যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করবে সে দশবার ক্বুরআন খতম দেয়ার সাওয়াব পাবেন।”
📚 আদ্ দুর্রুল মানসুর ফিত্ তাফসীরিল মাসূর, খণ্ড ৫, পৃঃ নং ২৫৬।

হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামঃ

‏ إنَّ الصَّدَقَة َلتُطفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ؛

‏ ‏✍️‎〖সদকা, আল্লাহর ক্রোধ নির্বাপণ করে দেয়।〗💐‎

📚 নাহজুল ফাসাহা, পৃঃ নং ২৮৩, হাদিস নং ৬৪৬।

হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামঃ

اَلصَّدَقَةُ عَلى ‏وَجهِها وَاصطِناعُ المَعروفِ وَبِرُّ الوالِدَينِ وَ صِلَةُ الرَّحِمِ تُحَوِّلُ الشِّقاءَ سَعادَةً وَ تَزيدُ فِى العُمرِ وَ تَقى مَصارِعَ السُّوءِ؛

✍️“সঠিক স্থানে সদকা প্রদান করা, নেক কাজ করা, পিতা-মাতার প্রতি এহসান করা এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে দূর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে পরিণত করে দেয়, আয়ু বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যত অমঙ্গলকে প্রতিহত করে।”💐

📚নাহজুল ফাসাহা, পৃঃ নং ৫৪৯, হাদিস নং ১৮৬৯।

আল্লাহর রাসূল (সা.):

حدثنا الْحَسَنُ بن عَرَفَةَ حدثنا إسماعيل بن عَيَّاشٍ عن عبد اللَّهِ بن عُثْمَانَ بن خيثم عن سَعِيدِ بن رَاشِدٍ عن يَعْلَي بن مُرَّةَ قال قال رسول اللَّهِ صلي الله عليه وسلم حُسَيْنٌ مِنِّي وأنا من حُسَيْنٍ أَحَبَّ الله من أَحَبَّ حُسَيْنًا

“হুসাইন আমার থেকে আর আমি হুসাইন থেকে। যে ব্যক্তি হুসাইনকে ভালবাসবে তাকে আল্লাহ ভালবাসবে।” (সুনানু তিরমিযি, খণ্ড ৫, পৃঃ নং ৬৫৮, হাদিস নং ৩৭৭৫; আল মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন লি হাকিম নিশাবুরী, খণ্ড ৩, পৃঃ নং ১৯৪, হাদিস নং ৪৮২০; সাহি ওয়া দ্বয়িফু সুনানি তিরমিযি লিল আলবানী, খণ্ড ৮, পৃঃ নং ২৭৫।)

 হযরত আবুযার গিফারী রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু পবিত্র কাবা ঘরের দরজা ধরে বলেন, আমি প্রিয় নবী (সঃ)-কে বলতে শুনেছি,

ألاَ إنَّمَا مَثَلُ أهْلُ بَیْتِیْ فِیْکُمْ مَثَلُ سَفِیْنَةِ نُوْحٍ مَنْ رَکَبَهَا نَجَیْ وَ مَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا هَلَکَ

“জেনে রাখো! নিশ্চয় তোমাদের মাঝে আমার আহলে বাইত হচ্ছে নূহের তরীর ন্যায়। যে ব্যক্তি তাতে আরোহণ করবে সে নাজাত পাবে আর যে ঐ তরী থেকে দূরে থাকবে, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।” (কউকাবে দুররী, পৃঃ নং -১৯৯)।

 আল্লাহর রাসূল (সা.):

«الْحَسَنُ وَ الْحُسَينُ سَيِّدا شَبابِ اهْلِ الْجَنَّةِ» او «وَ انّ حَسَنَاً وَ حُسَيْنَاً سَيِّدا شَبابِ اهْلِ الْجَنَّة»

“ নিশ্চয় (ইমাম) হাসান ও (ইমাম) হুসাইন জান্নাতবাসী যুবকদের সর্দার।” (সুনান ইবনে মাজা,  খণ্ড ১, পৃঃ নং ৫৬; আল জামিউস সাগ্বির, খণ্ড ১, পৃঃ নং ৭ ও ১৫২, সুনান আত্ তিরমিযি, খণ্ড ১৩, পৃঃ নং ১৯১, ১৯২; খাসায়িসু নিসায়ী, পৃঃ নং ৪৮)।

আল্লাহর রাসূল (সা.) ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনকে কোলে নিয়ে দোয়া করতেনঃ

«اللَّهُمَّ انّى‏ احِبُّهُما فَاحِبَّهُما وَ احِّبَّ مَنْ يُحِبُّهُما»

“হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি এই দুইজন (হাসান ও হুসাইন)-কে ভালবাসি। যে ব্যক্তি এই দুইজন (হাসান ও হুসাইন)-কে ভালবাসবে তুমি তাকে ভালবাস।” (আল ইসতিয়াব ফি মা’রিফাতিল আসহাব লি ইবনে আব্দিল বির, খণ্ড ১, পৃঃ নং ৩৭৬)।

আল্লাহর রাসূল (সা.):

قَالَ رَسُولُ الله: احَبُّ اهْلِ بَيْتى‏ الَىَّ الْحَسَنُ وَ الحُسَيْنُ

“আমার আহলে বাইতের মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশী ভালবাসি হাসান ও হুসাইনকে।” (সুনান আত্ তিরমিযি, খণ্ড ১৩, পৃঃ নং ১৯৪)।

আল্লাহর রাসূল (সা.):

قَالَ رَسُولُ الله:انَّ الْحَسَنَ وَ الْحُسَينَ هُما رَيْحانَتاىَ مِنَ الدُّنْيا

“নিশ্চয় হাসান ও হুসাইন এই দুনিয়ায় আমার দুটি সুগন্ধময় পুষ্প।” (সহি আল বুখারী, খণ্ড ২, পৃঃ নং ১৮৮; সুনান আত্ তিরমিযি, খণ্ড ১৩, পৃঃ নং ১৯৩; উসুদুল গ্বাবা, খণ্ড ২, পৃঃ নং ১৯)।

ইমাম ইসমাঈল আল বুখারী  ইবনে আসির বর্ণনা করেছেন যেযখন ইমাম হুসাইনের পবিত্র (কর্তিতমাথা কুফাতেইয়াযিদের গভর্নর উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের কাছে আনা হলো তখন উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ এই পবিত্র মস্তককেএকটা ট্রেতে রেখে নিজ হাতের লাঠি দিয়ে ইমাম হুসাইনের চোখেমুখে আঘাত করে সময় সেখানে উপবিষ্ট রাসূলেরসাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক হযরত রাসূল (সা.)-এর কাছ থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করে বলেনঃ

اَشبَعُ النَّاسٍ للنَّبِي الحُسَيْنُ

 “(ইমাম) হুসাইন আহলে বাইতের মধ্যে সবচেয়ে বেশী  রাসূল (সা.)-এর অনুরূপ ছিলেন।” (সহি আল্ বুখারী, খণ্ড ২, পৃঃ নং ১৮৮)।

ইমাম তিরমিযি  ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল বর্ণনা করেছেন যেআল্লাহর রাসূল (সা.) হাসান  হুসাইনের হাত ধরেবলেছেন,

انَّ رسُولَ اللَّه (ص) اخَذَ بِيَدِ حَسَنٍ وَ حُسَيْنٍ فَقَالَ: مَنْ احَبَّنى‏ وَ احَبَّ هذَيْنِ وَ اباهُما وَ امَّهُما کانَ مَعى‏ فى‏ دَرَجَتى‏ يَوْمَ الْقِيامَةِ

“যে ব্যক্তি আমাকে, এই দুইজনকে [=হাসান ও হুসাইনকে], তাদের বাবা ও মাকে ভালবাসবে সে ব্যক্তি ক্বিয়ামতে আমার সাথে একই অবস্থানে অবস্থান করবে।” (সহি আত্ তিরমিযি, খণ্ড ১৩, পৃঃ নং ১৭৬; কানযুল উম্মাল, খণ্ড ৬, পৃঃ নং ২১৬; আস সাওয়ায়িক্বুল মুহরিক্বা, পৃঃ নং ১৮৫)।

 

ইমাম মারদাউই রাসূল (সা.)-এর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেনআল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেনঃ

فِىْ الْجَنَّةِ دَرَجَةٌ تُدْعَى‏ الْوَسيلَةُ فَاذا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسْأَلُوا لِىَ الْوَسيلَةَ قالُوْا: يا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ يَسْکُنْ مَعَکَ فيها؟ قالَ: عَلِىٌّ وَ فاطِمَةُ وَالْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ

“জান্নাতে একটা বিশেষ পদমর্যাদা আছে, যার নাম ওয়াসিলা। যখন তোমরা সেখানে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করো, তখন আমার কাছ থেকে ওয়াসিলার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো।”

“বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কে আপনার সাথে একই পদমর্যাদায় অবস্থান করছেন?”

তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেনঃ “আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন।” (কানযুল উম্মাল, খণ্ড ৬, পৃঃ নং ২১৭; উসুদুল গ্বাবা ফি মা’রিফাতিস সাহাবা, খণ্ড ৫, পৃঃ নং ৫২৩)।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বালআল্লামা ত্বাবারানী  হযরত ইবনে আসিরইমাম আলীর কাছ থেকে এবং আল্লামা হাকিমনিশাবুরী তার আল মুস্তাদরাক কিতাবে হযরত আবি সাঈদ খুদরী(রাঃ)-এর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন যেহযরত রাসূলেআকরাম (সা.) তাঁর কন্যা ফাতেমাকে বলেছেন,

 يا فاطِمَةُ، انّى‏ وَ ايّاک، وَ هذا الرَّاقِدَ يَعْنى‏ عَلِيًّا وَ الْحَسَنَ وَ الْحُسينَ يَوْمَ القِيامَةِ لَفِى مَکانٍ واحِدٍ

“হে ফাতেমা! আমি ও তুমি আর এই যে দেখছো শুয়ে আছে আলী, আর হাসান ও হুসাইন ক্বিয়ামতের দিনে একই সাথে একই স্থানে অবস্থান করবো।” (কানযুল উম্মাল, খণ্ড ৬, পৃঃ নং ২১৬)।

হযরত আনাস ইবনে হারিস তার পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা বলেছেন, একদা (ইমাম) হুসাইন আল্লাহর রাসূলের কোলে ছিল তখন  আমি শুনেছি যে, রাসূল(সা.) বলেছেন,

«انَّ ابْنى‏ هذا يُقْتَلُ فى‏ ارْضٍ يُقالُ لَهَا الْعِراقُ فَمَنْ ادْرَ کَهُ فَلْيَنْصُرْهُ

“এই যে দেখছো আমার সন্তান (হুসাইন) এমন এক যমিনে কতল হবে যার নাম বলা হয় ইরাক। যে ব্যক্তি তার আমলে বসবাস করবে তাকে অবশ্যই যেনো সাহায্য করে।” (কানযুল উম্মাল, খণ্ড ৬, পৃঃ নং ২২৩)।

Related Post

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Translate »