মিলাদুন্নবী (সা.)-এর পরিচয় ও কুরআন-হাদীসের দলীল (পর্ব ০৪)

377

কুরআনিক দলীল
৪নং আয়াত:

لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رءوف رحيم

অর্থ: “তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্যে থেকে একজন রাসূল এসেছেন, তাঁর পক্ষে এটি দুঃসহ যা তোমাদের কষ্ট দেয়, তোমাদের জন্য তিনি পরম কল্যাণকামী, বিশ্বাসীদের প্রতি তিনি অতি দয়ালু ও বিশেষ কৃপাময়।”
√ সূরা তাওবা-১২৮
আলোচ্য আয়াত থেকে বুঝা যায়, নবী করিম (সা.) পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন। নবী (সা.)- এর মিলাদ যে বৈধ তা উক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায়।
৫নং আয়াত:
আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন-

فحملته فانتبذت به مكانا قصيا فأجاءها المخاض إلي جذع النخلة قالت ياليتني مت قبل هذا وكنت نسيا منسيا فناداها من تحتها الا تحزني قد جعل ربك تحتك سريا وهزي اليك بجذع النخلة تساقط عليك رطبا جنيا فكلي واشربي وقري عينا فاما ترين من البشر احدا فقولي اني نذرت للرحمن صوما فلن اكلم اليوم انسيا

অর্থাৎ “তারপর তিনি তাঁকে গর্ভে ধারণ করলেন, এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে সরে গেলেন। তখন প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর গাছের গুড়িতে নিয়ে এলো। তখন তাঁর নিচে থেকে তাঁকে ডেকে বললেন- “দুঃখ করো না‚ তোমার প্রভূ অবশ্য তোমার নিচ দিয়ে একটি জলধারা রেখেছেন।” আর খেজুর গাছের কান্ডটি তোমার দিকে টানতে থাক, এটি তোমার উপরে টাটকা-পাকা খেজুর ফেলবে। সুতরাং খাও ও পান করো এবং চোখ জুড়াও। আর লোকজনের কাউকে যদি দেখতে পাও তবে বলো- “আমি পরম করুনাময়ের জন্যে রোযা রাখার মানত করেছি, কাজেই আমি আজ কোন লোকের সঙ্গে কথা বলব না।”
√ সূরা মারইয়াম-২২-২৬

আমরা এ আয়াত দ্বারা বুঝতে পারলাম, কারো জন্ম কাহিনী বর্ণনা করা কোন দোষের বিষয় নয় যে, তা পরিত্যাজ্য হবে। তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল বিশ্ব শান্তির মুক্তিদূত রাহমাতুললিল আলামীন মুহাম্মদ (সা.)- এর মিলাদ বা জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা অবশ্যই উত্তম কাজ।
৬নং আয়াত:
আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন-

انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا

“আমি নিশ্চয় তোমাকে পাঠিয়েছি একজন সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে, যেন তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনতে পারো এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান করতে পারো, আর যেন সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর নাম জপতে পারো।
√ সূরা ফাতহ-০৯
মহানবী (সা.)- কে তা’যীম করা শরীয়তের হুকুম। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, وتعزروه وتوقروه আর তোমরা যাতে তাঁকে সাহায্য করতে পারো এবং তাঁকে তা’যীম করতে পারো।
আর তাঁর জন্মদিনে আনন্দ প্রকাশ করা, খাদ্য বিতরণ, তাঁর জীবনী আলোচনা এবং দরিদ্রদেরকে সাহায্য করা তাঁরই তা’যীমের অন্তর্ভুক্ত।

এ আয়াত সম্পর্কে শায়খ ইসমাইল হক্কী স্বীয় তাফসীরের কিতাবে বলেন-

ومن تعظيمه عمل المولد اذا لم يكن فيه منكر قال الامان السيوطي قدس سره يستحب لنا اظهار الشكر لمولده عليه السلام

“আর মহানবী (সা.)- এর তা’যীমের অন্তর্ভুক্ত হলো- মিলাদ মাহফিল উদযাপন করা। যদি তাতে কোন গর্হিত কর্ম যুক্ত না থাকে। শায়খ জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) বলেন, মহানবী (সা.)- এর মিলাদ তথা জন্মে আমাদের জন্য খুশি প্রকাশ করা মুস্তাহাব।”
√ তাফসীরে হক্কী, সূরা ফাতহ, খণ্ড-১৪, পৃঃ নং-৪১
[2:59 am, 04/11/2020] +98 938 736 1496: 🌻📚ইমাম আলী (আ.) বলেছেন: “হে আদম সন্তান! নিশ্চয়ই তুমি ততক্ষন পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষন তুমি নিজেই নিজের উপদেশদাতা হবে এবং নিজের হিসাব নিজেই নিবে। আর আল্লাহর ভয়কে তোমার আবরন বানাবে এবং সতর্কতার সাথে জীবন যাপনকে তোমার আভ্যন্তরীন পরিচ্ছদ হিসেবে নির্ধারণ করবে। হে আদম সন্তান ! তুমি নিশ্চয় একদিন মৃতুবরণ করবে এবং পুনরুত্থিত হবে আর তখন আল্লাহর সম্মুখে তুমি দন্ডায়মান হবে। কাজেই তাঁর কাছে জবাব দেওয়ার জন্যে নিজেকে প্রস্তুত কর।”
[তুহাফুল উক্বুল, ইমাম যাইনুল আবেদীনের (আ.) সংক্ষিপ্ত বাণীমালা অধ্যায়, বাণী নং 16]।🌻📚

Related Post

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Translate »