মিলাদুন্নবী (সা.)-এর পরিচয় ও কুরআনিক দলীল (পর্ব নং-০১)

930

মিলাদের শাব্দিক বিশ্লেষণ:

আমরা মিলাদুন্নবীর মূল আলোচনা লিখার আগে মিলাদুন্নবীর শাব্দিক আলোচনা করব। মিলাদ + নবী দুটি শব্দ একত্রে মিলে মিলাদুন্নবী বলা হয়। সমাজে ‘মিলাদ’ -এর তিনটি শব্দ প্রচলিত আছে – ميلاد ‘মিলাদ’, مولد ‘মুলিদ’, ও مولود ‘মাওলুদ’। ميلاد ‘মিলাদ’ অর্থ জন্মের সময়, مولد ‘মুলিদ’ অর্থ জন্মের স্থান, مولود ‘মাওলুদ’ অর্থ সদ্যপ্রসূত সন্তান। আর النبي ‘নবী’ শব্দ দ্বারা বুঝায় হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে।
শাব্দিক অর্থে ميلاد النبي ‘মিলাদুন নাবী’ বলতে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- এর বিলাদাত শরীফ বা জন্মবৃত্তান্তকে বুঝানো হয়ে থাকে। মিলাদ اسم ظرف তথা স্থান বা কালবাচক বিশেষ্য। যেমন: ميقات – ميعاد – ميثاق মিকাত, মি’আদ, মিছাক ইত্যাদি শব্দগুলো একইভাবে ইসমে যরফ তথা স্থান বা কালবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন অভিধানে মিলাদ শব্দটির অর্থ কিভাবে লিখা হয়েছে তা আপনাদের খেদমতে উল্লেখ করছি-
আমরা লক্ষ করি কেউ কেউ মিলাদ শব্দকে ( اسم اله ) ইসমে আলাহ তথা যন্ত্রবাচক বিশেষ্য বলেছেন। যার অর্থ দাড়ায় প্রসব করার যন্ত্র।

এক: আল্লামা ইবনে মানযুর আল আফরীকি (মৃ. ৭১১ হি.) লিখেছেন:

اسم الوقت الذي ولد فيه : ميلاد الرجل

অর্থাৎ: “লোকটির মিলাদ, যে সময় সে জন্ম গ্রহণ করেছে সে সময়ের নাম।”
(লিসানুল আরব, ৩য় খন্ড ৪৬৮ পৃষ্ঠা)।

দুই: গিয়াছুল লুগা গ্রন্থে লেখা আছে –
ميلاد بالكسر زمان ولادت
মিলাদ শব্দটির মীম অক্ষর যের বিশিষ্ট যার অর্থ: জন্মকাল। (গিয়াছুল লুগাত)।

তিন: “মুন্তাখাব” অভিধানে লিখিত আছে-
و مولود حين يولد وقت الولادة وليد
অর্থাৎ “নবজাতক শিশু, জন্মকালীন ঘটনা, জন্মের সময়কাল।”
(লিসানুল আরব, তাজুল আরুস, কামুস, মুহকাম‚ তাহযীব, আছাছ, সেহাহ, জাওহারী, মেসবাহ)।
চার: ইংরেজী ও আরবি ডিকশনারীতে আছে- ميلاد অর্থ: birth (process of) being born‚ coming into the world অর্থাৎ পৃথিবীতে আগমনের সময়। (কামুসে ফারসী, ইংরেজী, আরবি, ১ম খন্ড)।
আমরা দেখলাম মিলাদুন্নবী অর্থ: হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- এর জন্মের সময়। আমরা বিভিন্ন অভিধান খুজে দেখলাম যে, মিলাদ শব্দটিকে কোন অভিধানবেত্তা ইসমে আলাহ তথা যন্ত্রবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করেন নাই। যারা এমনটি বলেন, মূলত: তা নবীর সাথে বিয়াদবী বৈ কিছুই নয়।

মিলাদের পারিভাষিক অর্থ:

১. আল্লামা মোল্লা আলী আলকারী (রহ:) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আল মাওরিদুর রাবী- তে বলেন-

المولد الشريف يشمل علي ذكر مولده الشريف والاجتماع لسماع معجزاته وسيرته والصلاة والسلام عليه وسماع المدائح التي تقابل في حقه والدعاء للميت والحي واطعام الطعام وادخل السرور علي قلوب الامة

অর্থাৎ “মিলাদ বলতে নবীর জন্মবৃত্তান্ত, তাঁর মুজিযাসমূহ ও সিরাতের আলোচনার জন্য একত্রিত হওয়া, আর যথাযথ প্রশংসাসহ তাঁর প্রতি দুরুদ ও সালাম পড়া। জীবিত ও মৃতের জন্য দো’আ, অতঃপর তাবাররুক (খাবার) আয়োজন করে মানুষের মনে নবীর জন্মে আনন্দ করা।
২. মিলাদুন্নবী অর্থ হচ্ছে: তাঁর জীবনের ঘটনাবলী, সানা সিফাত, মাতৃগর্ভে অবস্থানকালীন অলৌকিক ঘটনাবলী, তাঁর বংশ পরিচয়, হালিমা (রা.) এর ঘরে প্রতিপালিত হওয়ার ঘটনা আলোচনার নামই মিলাদ।
৩. প্রচলিত মিলাদ বলতে কুরআন তিলাওয়াত, দুরূদ শরীফ পাঠ‚ তাওয়াল্লুদ বা জন্যকালীন ঘটনা মজলিস করে আলোচনা করা, দাড়িয়ে সালাম, কসিদা বা প্রসংসামূলক কবিতা, দো’আ মুনাজাত ও তাবাররুক বিতরণ ইত্যাদির সামষ্টিক রূপ।
মিলাদ শব্দটির ব্যবহার:
মিলাদ শব্দটির মূল শব্দ হচ্ছে:
ولد )و+ل+د(

আমরা দেখব কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফে মূল শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কিনা?
কুরআন মাজীদে উল্লেখ আছে:-

والسلام علي يوم ولدت ويوم اموت ويوم ابعث حيا

অর্থাৎ: “আর শান্তি বর্ষিত হোক আমার উপর, যেদিন আমার জন্ম হয়েছিল, আর যেদিন আমি মারা যাব। আর যেদিন আমাকে পুনরুথিত করা হবে জীবিত অবস্থায়।” (সূরা মারইয়াম, আয়াত ৩৩)
জন্ম সংক্রান্ত বিষয়ে কুরআনুল কারিমে ولدت শব্দটির বিদ্যমানতাই প্রমাণ করে যে, মিলাদের মূল অস্তিত্ব আল কুরআনেই রয়েছে।🌹🌹🌹

Related Post

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

একনজরে

"ইমামিয়া পাক দরবার শরীফ" হলো শুধুমাত্র আহলে বাইতের প্রেমিকদের মিলন কেন্দ্র। বাংলার যমিনে আহলে বাইতের আদর্শ প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠা করাই হলো ইমামিয়া পাক দরবার শরীফের একমাত্র উদ্দেশ্য।

আমাদের সাথে থাকুন

Translate »