সূরা “আল ফাজর”-এর অনুবাদ

1314

(আমি)আল্লাহর নামে(শুরু করছি), যিনি রাহমান(পরম করুণাময় সকল সৃষ্টির জন্যে), যিনি রাহিম(অসীম দয়াবান কিছু বিশেষ ব্যক্তিদের জন্যে)।

(আমি) ঊষার-এর শপথ (করে বলছি),(১)
 
(আমি) দশ রাত্রির শপথ (করে বলছি),(২)
 
(আমি) জোড় ও বেজোড় (সংখ্যার) শপথ (করে বলছি),(৩)
 
(আমি) রাতের (সেই সময়ের) শপথ (করে বলছি), যখন তা (দিনের আলোর দিকে) অতিক্রান্ত হতে থাকে,(৪)
 
(আচ্ছা!) বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা কী উপরোক্ত শপথগুলোর মধ্যে শপথ করার কোন কারণ খুজে পায়?(৫)
 
(হে নবী!) তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক আ’দ জাতির সাথে কিরূপ আচরণ করলেন?(৬)
 
(আর সেখানে অবস্থিত) ইরাম (শহরটির) সাথে (তিনি কিরূপ আচরণ করলেন?) যা ছিল বৃহদাকার ও সুউচ্চ প্রাসাদে পূর্ণ,(৭)
 
আর (ততকালীন সময়ে) যে শহরের সমতুল্য অন্য কোন নগর নির্মিত ছিল না।(৮)
 
(তদ্রুপ তুমি কি দেখেছ!) সামূদ জাতির সাথে (তিনি কিরূপ আচরণ করলেন?), যারা উপত্যকার মধ্যে (মজবুত ও শক্তিশালী অট্টালিকা নির্মাণের জন্যে) বিশাল আকৃতির প্রস্তর খন্ডগুলো (পাহাড় থেকে) কেটে আনতো?(৯)
 
আর (তুমি কী দেখনি?) ফির’আউনের মত শক্তিমত্তার অধীকারী ও নির্যাতনকারী ব্যক্তির সাথে (তিনি কিরূপ আচরণ করলেন?), (১০)
 
যারা (ফির’আউন ও তার অনুসারীরা) বিভিন্ন শহরে ঔদ্ধ্যত্যপূর্ণ আচরণ করে যাচ্ছিল।(১১)
 
অতঃপর সেখানে তারা বহু ধ্বংসযজ্ঞ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল।(১২)
আর এ কারণে তোমার প্রতিপালক আযাবের চাবুক তাদের উপর কষে ধরলেন।(১৩)
 
নি:সন্দেহে তোমার প্রতিপালক (অত্যাচারীদের) শায়েস্তা করার জন্যে সতর্কতার সাথে প্রতীক্ষায় আছেন।(১৪)
 
আর মানুষ (এ রকমই)! যখন তার প্রতিপালক তাকে পরীক্ষা করে সম্মানিত করেন এবং নেয়ামত দান করেন, তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক (আমার নিজের যোগ্যতা ও উপযুক্ততার কারণেই) আমাকে সম্মানিত করেছেন।(১৫)
 
(অন্য দিকে) আবার যখন তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক আমাকে অপমানিত ও হেয় করেছেন।(১৬)
 
(হে মানুষ!) তোমরা যেরকম মনে করো সেরকম না, বরং (তোমাদের হীন ও অপমানিত হওয়া এবং আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে পড়ার মূল কারণ হচ্ছে যে,) তোমরা ইয়াতিমদের সন্মান করো না(১৭)
 
এবং অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দানে পরস্পরকে উৎসাহিত করো না,(১৮)
আর (কোন রকম
হালাল হারাম বাছ বিচার ছাড়াই অন্যের উত্তরাধিকার সম্পদের সাথে) নিজেদের উত্তরাধিকার সম্পদকে মিশিয়ে সম্পূর্ণ রূপে একত্রে ভক্ষন করে থাকো,(১৯)
 
তা ছাড়াও তোমরা ধন-সম্পদকে অত্যাধিক ভালবাসো।(২০)
 
(হে মানুষ!) তোমরা যেরকম মনে করো সেরকম না, পৃথিবীকে যখন চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে,(২১)
 
এবং যখন তোমার প্রতিপালকের (নির্দেশ) আসবে, আর সারিবদ্ধভাবে ফেরেশতাগণও উপস্থিত হবে,(২২)
 
সেদিন জাহান্নামকে হাজির করানো হবে, সেদিন মানুষ বুঝতে পারবে (যে, সে দুনিয়াতে কি করেছিল), কিন্তু এই উপলদ্ধি তার কোন্ কাজে আসবে?(২৩)
 
(ক্বিয়ামতের সত্যতা দেখে) তখন সে বলবে, হায়! (দুনিয়াতে থাকতেই) যদি আমার এ জীবনের জন্যে কিছু (নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত ও নেক কাজ) অগ্রিম পাঠাতে পারতাম!(২৪)
 
সেদিন (অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে) তাঁর (আল্লাহর) শাস্তির মত এরকম শাস্তি আর কেউ দিতে পারবে না,(২৫)
 
এবং (অপরাধীদের আটক করার ক্ষেত্রে) তাঁর (আল্লাহর) আটকের মত এরকম আটক আর কেউ করতে পারবে না।(২৬)
 
(সেদিন আল্লাহর বিশেষ প্রিয়ভাজনদের) বলা হবে, হে প্রশান্ত ও সন্তুষ্ট চিত্তের অধিকারী ব্যক্তি!(২৭)
 
তাঁর উপর তোমার সন্তুষ্টি এবং তোমার উপর তাঁর সন্তুষ্ট হওয়া অবস্থায় তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে এসো!(২৮)
 
তুমি আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও,(২৯)
 
আর তুমি আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।(৩০)

Related Post

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Translate »