হযরত ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর মর্যাদাঃ

601

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম-এর চাচী সাইয়্যেদা হযরত উম্মুল ফযল বিনতে হারিস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা অর্থাৎ হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র সহধর্মিনী একদিন নবীজীর নবুয়তী দরবারে হাজিরহ আরয করলেনঃ “ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম! আজ আমি একটি ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছি।”

সাইয়্যেদুল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, “কি দেখেছেন?”
তিনি বললেন, অনেক ভয়ংকর। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম আবার বললেন, “তা কি?” অতঃপর তিনি আরয করলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আপনার দেহ মুবারকের একটি অংশ আমার কোলে রাখা হয়েছে।

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, আপনি অনেক উত্তম স্বপ্ন দেখেছেন। ইনশা’আল্লাহ ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)- এর ঘরে একটি ছেলে সন্তান হবে এবং তাঁকে আপনার কোলে রাখা হবে।

হুজুর সারওয়ারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম-এর এই তা’বীর (স্বপ্নের বিশ্লেষণ) বাস্তবায়ন হল। সাইয়্যেদুশ শুহাদা, শাহজাদায়ে কাওনাইন হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম ৪ঠা হিজরী মোতাবেক ৫ই শা’বান হযরত মাওলা আলী আলাইহিস সালাম-এর ঘরে এবং হযরত সাইয়্যেদা মা ফাতিমা আলাইহাস সালাম-এর পবিত্র গর্ভের মাধ্যমে দুনিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তাঁকে সাইয়্যেদা উম্মুল ফযল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা’র কোলে দেওয়া হয়। এরই মাধ্যমে নবীজীর ভবিষ্যত বাণীর বাস্তবায়ন ঘটলো।

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইরশাদ করেন, হযরতহুসাইন আলাইহিস সালাম দেখতে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম-এর মত ছিলেন। [বুখারী শরীফ]

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু একবার হুজুর করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম! আহলে বায়তের মধ্যে আপনার নিকট কে সর্বাধিক প্রিয়? হুজুর ইরশাদ করলেন, হাসান এবং হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম)। [মিশকাত শরীফ]

অধিকাংশ সময়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম হযরত
ফাতিমা আলাইহাস সালাম-কে বলতেন, আমার সন্তানদেরকে ডাকো। যখন হযরত ইমাম হাসান এবং হুসাইন আলাইহিমাস সালাম হাজির হতেন, তখন তিনি উভয়ের ঘ্রাণ নিতেন এবং তাদের গর্দান মুবারকে চুমু খেতেন।
[তিরমিযী, মিশকাত]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনাকরেন যে, নিঃসন্দেহে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় হাসান এবং হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম) দুনিয়াতে আমার দু’টি ফুল। [তিরমিযী]

হযরত ইয়া’লী বিন মুররাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হুসাইন আমার হতে এবং আমি হুসাইন হতে। আল্লাহ তাকে মুহাব্বত করবেন, যে হুসাইনকে ভালোবাসবে। হুসাইন আমার আসবাতদের (নাতিদের) হতে অন্যতম প্রিয় সিব্-তুন (নাতি)। [তিরমিযী, মিশকাত]

[‘সিব্-তুন’ ঐ গাছকে বলা হয়, যার শেকড় একটি কিন্তু শাখা- প্রশাখা অনেক। যেমনটি হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম- এর
সন্তানদের আসবাত (সিব্-তুন এর বহুবচন আসবাত) বলা হয়। এমনিভাবে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম হুজুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর সিব্-তুন। এ দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, এই শাহজাদার মাধ্যমে আমার বংশ বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁর সন্তান দ্বারা পূর্ব হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত পরিপূর্ণ হবে।

Related Post

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Translate »