আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ)

1048

হযরত আলী ইবনে আবি তালিব আল মুরতাদ্বা সালামুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত কিছূ হাদিসঃ

🔯 হাদিস নং ১ 🔯

“যে ব্যক্তি ফজর নামাজ বাদ সূরা আল ইখলাস ১১ বার তিলাওয়াত করবে সে ঐদিন কোন প্রকার গুনাহতে অপবিত্র হবে না, তা যতই শয়তানের ইচ্ছার বিপরীতে হোক না কেন।”💐
👁‍🗨(সাওয়াবুল আ’মাল, পৃঃ নং ৩৪১)।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ২ 🔯

দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী দূর করতে-

✦●•• ইমাম আলী ইবনে আবি ত্বালিব সালাওয়াতুল্লাহি ওয়া সালামুহু ‎আলাইহিমাঃ
 
✍️ “যখনি রাসূল (সা.) কোন বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়তেন তখন ‎আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াতের পর নিচের দোয়াটি পাঠ করতেন আর ‎বলতেন, “এমন কোন মুসলমান নেই যে, এই দোয়াটি তিনবার পাঠ ‎করার পর সে তার হাজত পায়নি।” ‎
 
یا حَىُّ یا قَیِوم، یا حَیّا لایَموت، یا حَىَّ لا اِلهَ اِلا انت كاشِفَ الهَمّ، مُجیبَ دَعوة المُضطَرین، اَسالُكَ ‏بِانَّ لكَ الحَمد لا اِله اِلا انت، المَنّان، بَدیع السموات والارض، ذوالجلال و الاكرام، رَحمان الدنیا ‏والاخرة و رَحیمها ربِّ ارحَمنى رَحمَةً تُغنینى بِها عَن رَحمةٍِ مِن سِواكَ یا ارحمَ الراحمین.
 
তবারায়িফুল হুত্-ম, খণ্ড ২, পৃঃ নং ২১।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ৩ 🔯

🌷ইমাম আলী(আ:):

جَمالُ العَيشِ القَناعَةُ.
“জীবনের সৌন্দর্য হচ্ছে মিতব্যয়িতা।”
📚মিযানুল হিকমাহ, খণ্ড ২, পৃঃ নং ২৫৩।
 
‎••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ৪ 🔯

🌹পুত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি ইমাম আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.)-এর উপদেশঃ

“প্রিয় পুত্র আমার! ইসলামের চেয়ে বড় কোন মর্যাদা নেই। আর তাক্বওয়ার চেয়ে বড় কোন সম্মান নেই। সংযমশীলতার চেয়ে শক্তিশালী কোন দূর্গ নেই। আর তাওবার চেয়ে কার্যকর কোন শাফায়াতকারী নেই। সততার চেয়ে সুন্দর কোন পরিচ্ছদ নেই। আর স্বীয় জীবিকার প্রতি সন্তুষ্টির চেয়ে অভাব দূরকারী কোন সম্পদ নেই। যে ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় সন্তুষ্ট থাকে সে দ্রুত সুখ লাভ করে এবং শান্তির ভুবনে প্রবেশ করে।”
📚তুহাফুল উক্বুল আ’ন আলের রাসূল (সা.), পৃঃ নং ৮৭-৮৮।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ৫ 🔯

🌹ইমাম আলী (আ.):

“আমি তোমাদের মধ্যকার দুটি বিষয়কে ভয় পাই।
🔸একঃ লম্বা আশা-আকাঙ্খা (নেতিবাচক অর্থে)।
🔸দুইঃ নফসের আনুগত্য। মনে রেখো! লম্বা আশা-আকাঙ্খা পরকালকে ভুলিয়ে দেয়। আর নফসের আনুগত্য মানুষকে সত্য পথে চলা থেকে বিরত রাখে।”
📚তুহাফুল উক্বুল, পৃঃ নং ১৮০।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ৬ 🔯

ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তাঁর পিতা আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.)-এর উপদেশ👇

🔰[প্রিয় পুত্র আমার! লোভ হলো কষ্টের চাবিকাঠি, বিপদের বাহন এবং পাপে নিপতিত হওয়ার কারণ। আর দুনিয়ার মোহ সকল খারাপ দোষের আঁধার। তোমার নিজের আদব শিক্ষার জন্যে এতটুকুই যথেষ্ট যে, অন্যের জন্যে যা অপছন্দ করো (তা থেকে নিজেকে বিরত রাখো)। তোমার ভাই তোমার উপরে সেই অধিকারই রাখে যা তুমি তার উপরে রাখো। যে ব্যক্তি অপরিণামদর্শী হয়ে কোন কাজে রত হয় সে বিপদের সম্মুখীন হয়। (জেনে রাখো!) কাজের পূর্বে পরিকল্পনা তোমাকে অনুশোচনা থেকে রক্ষা করবে। যে ব্যক্তি বিভিন্ন মতামতকে দৃষ্টিতে রাখবে সে ভ্রান্তির স্থানগুলো চিনতে পারবে। ধৈর্য হলো অভাব থেকে বাঁচার বর্ম। আর কৃপণতা হলো অপদস্থের আবরণ। লোভ হলো অভাবের লক্ষন। দয়াবান দরিদ্র ব্যক্তি অপমানকারী ধনাঢ্যের চেয়ে উত্তম। প্রত্যেকটি জীবনের একটি জীবিকা রয়েছে আর মানবজাতি হলো মৃত্যুর জীবিকা।]
(তুহাফুল উক্বুল আ’ন আলের রাসূল (সা.), বাংলা অনুবাদ, পৃঃ নং ৮৮)।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ৭ 🔯

ইমাম আলী (আ:) এক চিঠিতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে লিখেছেনঃ

*”دَع ما فاتَكَ مِنَ الدُّنيا فَلا تُكثِر عَلَيهِ حَزَنا”.*
“দুনিয়ার কোন কিছু তোমার কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে গেলে তাকে ছেড়ে দাও এবং ঐ ব্যাপারে আর দুশ্চিন্তা করো না।”
📚আল কাফি, খণ্ড ৮, পৃঃ নং ২৪০, হাদিস নং ৩২৭।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ৮ 🔯

🌻ইমাম আলী (আ.) বলেছেন:

“হে আদম সন্তান! নিশ্চয়ই তুমি ততক্ষন পর্যন্ত কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষন তুমি নিজেই নিজের উপদেশদাতা হবে এবং নিজের হিসাব নিজেই নিবে। আর আল্লাহর ভয়কে তোমার আবরন বানাবে এবং সতর্কতার সাথে জীবন যাপনকে তোমার আভ্যন্তরীন পরিচ্ছদ হিসেবে নির্ধারণ করবে। হে আদম সন্তান ! তুমি নিশ্চয় একদিন মৃতুবরণ করবে এবং পুনরুত্থিত হবে আর তখন আল্লাহর সম্মুখে তুমি দন্ডায়মান হবে। কাজেই তাঁর কাছে জবাব দেওয়ার জন্যে নিজেকে প্রস্তুত কর।”
📚 [তুহাফুল উক্বুল, ইমাম যাইনুল আবেদীনের (আ.) সংক্ষিপ্ত বাণীমালা অধ্যায়, বাণী নং 16]।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ৯ 🔯

🌻 ইমাম আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.):

✍️“আল্লাহর রাসূলের উপর দরুদ পাঠানো গুনাহকে ধ্বংস করে দেয়, আর তা পানি আগুনকে নির্বাপিত করার চেয়েও উত্তমভাবে এ কাজটি করে থাকে। আল্লাহর রাসূলের উপর সালাম দেয়া কতেক দাস মুক্ত করার চেয়েও উত্তম। আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসা আল্লাহর রাহে প্রাণ বিসর্জন দেয়ার চেয়েও উত্তম।”
📚সাওয়াবুল আ’মাল, পৃঃ নং ৩৩১।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ১০ 🔯

‎ইমাম আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.):

ذُروَةُ الغاياتِ لا يَنالُها إلاّ ذَوُو التَّهذيبِ وَ المُجاهَداتِ.
📙 “মানুষ তার পবিত্র সুউচ্চ লক্ষ্যে পৌছুতে সক্ষম হবে না যতক্ষন না পর্যন্ত সে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং নিজের নফসের সাথে জিহাদ করেছে।”
 
📚গুরারুল হিকাম, হাদিস নং ৫১৯০।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ১১ 🔯

ইমাম আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.):

[▶️ একদা এক ব্যাক্তি মহানবীর(সা.) কাছে এসে বলল:
🌹আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাকে ভালবাসবেন, মানুষও আমাকে ভালবাসবে। আল্লাহ আমাকে অধিক ধন-সম্পদ দান করবেন এবং সুস্বাস্থ্য দান করবেন। আমার আয়ু দীর্ঘতর করবেন এবং আমাকে বেহেশতে আপনার প্রতিবেশী করবেন।🌷
▶️ মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.) উত্তরে বললেন:
🌹তুমি যা বললে তা হচ্ছে ৬ টি জিনিস আর তার জন্য তোমাকে ৬ টি কাজ করতে হবে:
1⃣ যদি চাও আল্লাহ্‌ তোমাকে ভালবাসবেন, তাহলে তাকে ভয় করো এবং মুত্তাকী ও পরহেজগার হও।
2⃣ যদি মানুষের ভালবাসা পেতে চাও তাহলে তাদের সাথে সদাচরণ করো এবং তাদের সম্পদের দিকে চোখ দিও না।
3⃣ যদি চাও তোমার সম্পদ বৃদ্ধি পাক তাহলে, যাকাত দাও এবং দান কর।
4⃣ সুস্থতার জন্য পরিমিত আহার কর এবং সদকা দাও।
5⃣ আয়ু দীর্ঘতর হওয়ার জন্য আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ এবং তাদের সমস্যার সমাধান করো।
6⃣ আর যদি বেহেশতে আমার প্রতিবেশী হতে চাও, তাহলে আল্লাহর দরবারে বেশী বেশী এবং দীর্ঘ সিজদা করো।]
📚📚 (আলামুদ দ্বীন, পৃ: নং ২৬৮; বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৮৫, পৃ: নং ১৬৪, হাদিস নং ১২)।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ১২ 🔯

🍃🍂 ইমাম আলী আলাইহিস সালামঃ

كَفِّروا ذُنوبَكُم وَ تَحَبَّبوا اِلى ‏رَبِّكُم بِالصَّدَقَةِ وَ صِلَةِ الرَّحِمِ.
 
“সদকা প্রদান করে এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে তোমাদের গুনাহগুলোকে দূর করে দাও এবং নিজেদেরকে আল্লাহর প্রিয়ভাজন করে নাও।”
📚 তাসনিফু গুরারুল হিকাম ওয়া দুরারুল কালিম, পৃঃ নং ৩৯৫, হাদিস নং ৯১৫২।
 
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ১৩ 🔯

🔹জনৈক ব্যক্তি হযরত আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী আলাইহিস সালাম-কে জিজ্ঞেস করলোঃ
✍️“কবিরা গুনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কোন গুনাহ?”
🌹ইমাম উত্তরে বলেনঃ
✍️“আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া।”
📚মিযানুল হিকমাহ, খণ্ড ৩, পৃঃ ৪৬২।
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ১৪ 🔯

🍃🍂 জালেম অথবা যাদুকরের হাত থেকে মুক্তি🍃🍂
 
🖊 ইমাম আলী (আ.): “যদি তুমি কোন জালেম অথবা যাদুকরকে ভয় পেয়ে থাকো, তাহলে তার অনিষ্ট থেকে মুক্তি লাভের জন্যে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের পর এবং ফজর নামাজের আগে ঐ জালেম ও যাদুকরের বাড়ির দিকে মুখ করে সাতবার পড়ঃ
بسم الله و بالله سنشد عضدک بأخیک و نجعل لکما سلطاناً فلا یصلون الیکما بآیاتنا انتما و من اتّبعکما الغالبون.
 
《বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি সানাশুদ্দু আ’দ্বুদুকা বিআখিকা ওয়া নাজআ’লু লাকুমা সুলত্ব-নান ফালা ইয়াসিলুনা ইলাইকুমা বিআয়া-তিনা আনতুমা ওয়া মানিত্তাবাআ’কুমাল গ্ব-লিবু-ন》।”💐
 
📚কুল্লিয়া-তু মাফাতি-হিল হাজাত, পৃঃ নং ১৯৮ ও ১৯৯।
••●✦✦●••

🔯 হাদিস নং ১৫ 🔯

🌹ইমাম আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিমাস সালামঃ

وَ قَدَّرَ الاْرْزَاقَ فَكَثَّرَهَا وَ قَلَّلَهَا،وَ قَسَّمَهَا عَلَى الضِّيقِ والسَّعَةِ فَعَدَلَ فِيهَا لِيَبْتَلِيَ مَنْ أَرَادَ بَمَيْسُورِهَا وَمَعْسُورِهَا، وَ لِيَخْتَبِرَ بِذلِكَ الشُّكْرَ والصَّبْرَ مِنْ غَنِيِّهَا وَ فَقِيرِهَا

✍️ “আল্লাহ তায়ালা রিযিক ন্যায়ভাবে বন্টন করেছেন, যেন তিনি যে কাউকে আধিক্য দিয়ে অথবা স্বল্প পরিমান সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন এবং সম্পদশালীর কৃতজ্ঞতা আর স্বল্প রিযিকের অধিকারী ব্যক্তির ধৈর্য পরীক্ষা নিতে পারেন।”

📚 নাহজুল বালাগ্বা, ৯১ নং খুতবা (কোন কোন ভার্ষনে ৯০ নং খুতবা) থেকে সংগৃহীত।

🔯 হাদিস নং ১৬ 🔯

🌹ইমাম আমিরুল মুমিনিন আলী আলাইহিস সালামঃ

الطُّمَأنينَةُ إلى كُلِّ أحَدٍ قَبلَ الاِختِبارِ مِن قُصورِ العَقلِ.

✍️অর্থঃ “পরীক্ষা করার পূর্বে কাউকে  বিশ্বাস করা অল্প বুদ্ধির পরিচায়ক।”

📚 গুরারুল হিকাম, হাদিস নং ১৯৮৫।

Related Post

Leave a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Translate »