১৫ শাবান: হযরত ইমাম মাহদী (আ.)’র পবিত্র জন্মদিন

1079 0

🔊এক নজরে হযরত ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল মাহদী আলাইহিস সালামঃ 📣
👇👇👇👇👇

নামঃ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (আঃ)
ডাক নামঃ আবা সালেহ
উপাধিঃ আল মাহ্দী, ওয়ালি আসর, সাহেবুজ্জামান, সাহিবুল আসর ওয়ায যামান, আল হুজ্জাত, আল ক্বায়েম, আল মুন্তাযার, মাওউদ, ইমাম এ আসর, বাকিয়াতুল্লাহ।
পিতার নামঃ হাসান ইবনে আলী (আঃ)
মাতার নামঃ নারজিস খাতুন
জন্ম তারিখঃ ১৫ ই শা’বান হিজরী ২৫৫/২৫৬সন
জন্ম স্থানঃ ইরাকের রাজধানী শহরের উপকণ্ঠে সামেরাহ্ নগরীতে

ইমামত কালঃ তাঁর মহান পিতার শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বৎসর। তখন থেকে তাঁর ইমামতের যুগ শুরু হয়। তিনি নিজেকে প্রায় সত্তুর বৎসর অত্যাচারী বাদশাহর আক্রমনের হাত থেকে রক্ষার জন্যে আল্লাহর নির্দেশে আত্মগোপন করে রাখেন। এই সময়কালকে ঐতিহাসিকগণ ক্ষুদ্র অদৃশ্যকাল বলে আখ্যায়িত করেছেন। অতঃপর তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। তিনি অপরিচিতভাবে জনসমাজে বিচরণ করে থাকেন এবং তাঁর অনুসারীদেরকে সাহায্য করে থাকেন। তিনি আল্লাহর অনুমতিক্রমে পুনরায় জন সমাজে আবির্ভূত হবেন। এই দীর্ঘ মেয়াদী সময়কে বলা হয় “বৃহৎ অদৃশ্যকাল”।

💞ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের জন্ম পরিচিতিঃ💞
🔊ইসলামের দ্বাদশ ইমাম হযরত হুজ্জাত ইবনুল হাসান আল্ মাহ্দী (আ.) ২৫৫ হিজরীর ১৫ই শা’বান (৮৬৮ খৃষ্টব্দে) শুক্রবার ভোরে ইরাকের সামেরা শহরে একাদশ ইমামের বাড়ীতে জন্ম গ্রহণ করেন। (উসুলে কাফি, খন্ড ১, পৃঃ নং ৫১৪)। তা

পিতামাতা হচ্ছেন যথাক্রমে ইসলামের একাদশ পথ নির্দেশক হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.) ও হযরত নারজীস খাতুন, যিনি সুসান নামেও পরিচিত। তিনি তৎকালীন রোমের বাদশার ছেলে ইউসায়া’র কন্যা। তিনি ছিলেন হযরত ঈসা (আ.)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী সামউ’ন -এর বংশধর। তিনি এমনই সম্মানিতা ছিলেন যে, ইমাম হাদী (আ.)-এর বোন হাকিমা খাতুন তাকে নিজের ও তার খানদানের নেত্রী এবং নিজে তার সেবাকারীনী হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫১, পৃঃ নং ১২)।

যখন নারজীস খাতুন রোমে থাকতেন প্রায় রাতে অসাধারণ স্বপ্ন দেখতেন। একবার তিনি স্বপ্নে নবী করিম (সা.) ও ঈসাকে (আ.) দেখলেন যে, তাকে ইমাম হাসান আসকারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করালেন। অন্য আরও একটি স্বপ্নে দেখলেন যে, হযরত ফাতিমা (সা. আ.)-এর দাওয়াতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছেন। মুসলমানরা রোমানদের সাথে যুদ্ধে বিজয়ী হলে তিনি মুসলমানদের হাতে বন্দী হলেন। ইমাম হাদী (আ.)-এর এক ভৃত্য তাকে দাসী বিক্রয়ের স্থান থেকে কিনে নিয়ে সামেরায় ইমামের কাছে পৌছালো। তিনি স্বপ্নের মধ্যে যা কিছু দেখেছিলেন ইমাম সেগুলো তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, সে একাদশ ইমামের স্ত্রী ও এমন এক সন্তানের জননী, যিনি এই পৃথিবীর শাসনকর্তা হবেন। আর তিনি হবেন পৃথিবীর বুকে ন্যায়-নীতির প্রতিষ্ঠাকারী। তারপর ইমাম হাদী (আ.) তাকে তাঁর বোন হাকিমা খাতুনের হাতে তুলে দেন। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫১, পৃঃ নং ৬-১১)।

হাকিমা খাতুন যখনই ইমাম আসকারী (আ.)-এর কাছে আসতেন তখনি দোয়া করতেন যে, আল্লাহ্ যেন তাকে সন্তান দান করেন। একদিন ইমাম বলেন, সে আজ রাতেই দুনিয়ায় আগমন করবে। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫১, পৃঃ নং ২৫)।

ইমাম আরো বললেন, ফুফু! আজ রাত আমাদের কাছে থেকে যান। কেননা আজ রাতে এমন এক শিশু ভূমিষ্ঠ হবে, যে আল্লাহর কাছে অনেক বেশী সম্মানিত ও প্রিয়। যার মাধ্যমে আল্লাহ মৃত দুনিয়াকে আবার জীবিত করবেন। হাকিমা খাতুন বলেন, হে আমার পথনির্দেশক! আপনি কার ভুমিষ্ঠ হওয়ার কথা বলছেন? ইমাম মুচকি হেসে বললেন, ভোরে আপনার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে যে, নারজিসের গর্ভে সন্তান ছিল। কেননা সে মুসা কালিমুল্লাহর মায়ের ন্যায়। সে কারণেই তার গর্ভাবস্থা বোধগম্য নয়। আর যে শিশু আজ রাতে জন্ম নিবে সেও মুসার মতই ফেরাউনদের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে ফেলবে এবং তারাও তার খোঁজে আছে। হাকিমা খাতুন বলেন, রাতের শেষের দিকে আচমকাভাবে নড়ে উঠলে আমি তাকে আমার কোলের মধ্যে নিয়ে আল্লাহর নাম পড়ে তার শরীরে ফুঁ দিলাম। ইমাম পাশের ঘর থেকে সুরা কাদর পড়ে তার মাথায় ফুঁ দিতে বললেন। আমি তাই করলাম। এই সময় তার পেটের শিশুটিও আমার সাথে একই সুরে সূরা পড়তে শুরু করল। আমি যতই পড়ি সেও আমার সাথে ততই পড়ে। সে আমাকে সালাম দিল। আমি দারুণভাবে চমকে উঠলাম। আমি নারজীসকে দেখলাম, সে যেন নূরের আলোর মধ্যে ডুবে আছে। তাকে দেখতে গেলে ঐ নূরের আলোক ছটায় আমার চোখ অন্ধকার হয়ে আসলো। যে ছেলে সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে তাকেও দেখলাম, সে সেজদারত অবস্থায় আছে এবং তর্জনী উঠিয়ে বলছে, সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি অদ্বিতীয় ও তাঁর কোন শরিক নেই এবং বাস্তবিকই আমার পিতামহ মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রসুল এবং মু’মিনদের বাদশাহ্ আলী (আ.) আমার পিতা। তারপর একের পর এক নিজে সহ অন্যান্য ইমামদের প্রতি সাক্ষ্য দিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ! আমার প্রতি তোমার প্রতিশ্রুতির স্থান ও সময়কে তরান্বীত করো, আমার কাজকে ফলাফলে পৌছাও, আমার পদযুগলকে মজবুত করে দাও এবং আমার মাধ্যমেই এই দুনিয়াতে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করে দাও …..।” (কামালুদ্দিন ওয়া তামামুন্ নিয়মাহ্, খন্ড ২, পৃঃ নং ১০০-১০২, বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫১, পৃঃ নং ১২-১৫)।
*******

Related Post

হযরত ফাতিমাতুয্ যাহরা সালামুল্লাহি আলাইহা-র শাহাদাতের দিন তারিখ

Posted by - September 2, 2019 0
🖤হযরত ফাতিমাতুয্ যাহরা সালামুল্লাহি আলাইহা-র শাহাদাতের দিন তারিখ-এর ব্যাপারে তিনটি বর্ণনা বিভিন্ন ইতিহাসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছেঃ🖤   🖊১। আল্লাহর হাবীব…

নারীকুল শি‌রোম‌নি !!

Posted by - January 25, 2020 0
ওহীর আ‌লোয় স্নাত হ‌য়ে তু‌মি এসে‌ছি‌লে ধরাত‌লে, প‌বিত্র নিঃশ্বা‌সে পে‌তে তু‌মি প‌বিত্রতার সব ঐশীমাখা! শ্রেষ্ঠত‌মের আদর ও পরশ তোমায় বু‌লি‌য়ে…

শোক ও সমবেদনা

Posted by - April 22, 2022 0
মহা মযলুম ইমাম, মাওলানা ও মাওলাল মুভাহ-হিদিন, আমিরুল মু’মিনিন, সাইয়্যিদুল আয়িম্মা, উরাফা ওয়া আউলিয়া, ক্বুত্-বুল আক্বত্বাব, ক্বাসিমুন নারি ওয়াল জান্নাহ,…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *