শাম-এ-গারিবা

1312 0
পশ্চিম আকাশে লালিমা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে,
এইতো কিছু, পূর্বে ছিল কোলাহল
ছিল মৃত্যুধ্বনি, তরবারির ঝনঝনানি
আরও কতো শব্দ ছিল আকাশে বাতাসে।
কিছু পূর্বে সূর্যের প্রখরতা ছিল ভীষণ,
যেখানে তৃষ্ণার্ত কিছু মানুষের পদধ্বনিতে
কাঁপছিল আযাযিলের অন্তর।
সব কোলাহল ভেঙ্গে এখন শুধুই নিরবতা
চাপা কান্নার আওয়াজে এখন হৃদয়ভাঙ্গা কিছু মানুষের বিক্ষিপ্ত ছুটোছুটি,
যেন বিপদসংকুল কোন ঝড়ের পূর্বাভাস
যেন এখনই হবে সাইমুমের তাণ্ডব।
এই তো কিছু পূর্বে
হোসেনের আহ্বানে মরুর আকাশেও প্রকম্পন ছিল
তার সাথে মালাকুলের জগতেও ছিল অস্থিরতা
শুধু নিশ্চুপ, নির্বোধ জগতবাসী।
পাখিরাও ছিল কিছু পূর্বে
শকুনের আগমনে তারাও হতাশ এখন
আশাহত হয়ে ফিরে যাচ্ছে নীড়ে
তারাও বুঝেছে, আর কোন আশা নেই এখন শকুনের ভিড়ে।
ডুবেছে সূর্য
যার সাথে ডুবেছে খোদায়ি খেলাফতের আশ্রয়,
এর সাথে ফিরে যাচ্ছে দ্বীনের প্রতিনিধিরা
অব্যক্ত প্রবঞ্চনা, অপমান আর লাঞ্ছনার সাথি হয়ে।
ভূলুণ্ঠিত হয়েছে সত্যের পতাকা
বিক্ষিপ্ত আর চ্ছিন্ন এখন যুলফিকারের দেহ,
অসহ্য নিরবতায় ছেয়ে গেছে চারদিক
আকাশের আঁধারে শুধু বিরহের আশ্রয় প্রার্থীদের হাহাকার।
বিক্ষিপ্ত ছড়ানো লাশের সারি,
যেন উন্মাদ হয়েছে নতুন কোন ইতিহাস লিখার প্রয়াসে
তৃষ্ণার সেই সাক্ষি গুলো নতুন কোন কাব্য সাজাতে ব্যস্ত এখন
আর আমি শুধু খুঁজি তোমায়।
তবুও আমরা বলেই যাবো
যতদিন নব্য মুয়াবিয়ার জন্ম না হয়
যতদিন আল মাদানির হিজাব ছেড়ে
প্রকাশিত না হয়, লম্পটের অবয়ব।
বানর নাচের জলশা ঘরে
জন্ম নেয়া বেজন্মার দুঃশাসনের
যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার পরও আমরা বলেই যাবো,
হে আলী! তুমিই মহান!
টুটি চেপে ধরুক রোধ করুক কণ্ঠ স্বর
বানোয়াট সত্যায়নের উদ্যম বাজারে বলুক আমায় মিথ্যাবাদী
তবুও আমি চিৎকার করে বলেই যাবো
তুমি সত্য! শুধু তুমিই সত্য হে মহিয়ান!!!
সবাই আমায় পাগল বলুক
তায়েফের মতো বর্ষিত হোক পাথরের তীব্র বৃষ্টি,
ললাটের রক্তে জমাট বেঁধে যেতে পারে পায়ের জুতা
তবুও আমি চুপ থাকবো না।
হতে পারে কোন এক মুয়াবিয়া
তোমার নাম নেয়ার দায়ে আমার জিহ্বা কেটে নিবে,
অথবা তোমার স্মরণে অশ্রুপাতের অপরাধে উপড়ে ফেলা হবে আমার চোখ
তোমায় নিয়ে লিখার অপরাধে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে হাত
অথবা তোমার যিয়ারাতে যাওয়ার অপরাধে কাটা হবে আমার পা।
এমন হাজ্জাজের জন্ম হতেই পারে,
বিন যিয়াদের জন্ম আবারও হবে
তবুও আমি চিৎকার করে অবলিলায় দুনিয়াবাসীকে বলেই যাবো
হে আলী! তুমি মহিয়ান! তুমি গরিয়ান!
কোন প্রান্তসীমায় এ দহন শেষ হয়ে যায় নি,
মশালের দহন আজ রূপ নিয়েছে বারুদের গর্জনে।
তবুও আমি নির্ভীক
তবুও আমি নিষ্ঠুরতার চোখে চোখ রেখে বলতে পারি
এ দহন আমাকে পোড়ানোর সাধ্য রাখে না।
কারণ আমি তো নিজেকে পুড়িয়ে নিয়েছি
ছাই করে ছড়িয়ে দিয়েছি
অত্যাচারের চার দেয়ালে।
শুন মা! তোমাকে বলি
আজ জমিনের প্রতিটি রক্তের ফোঁটা
তোমার ঘরের আগুনের সাক্ষী বয়ে চলছে।
হাজারো নির্ভীক
অগণিত তোমার সন্তানেরা
মশক মিছিল নিয়ে তোমার পানে ছুটছে।
চ্ছিন্ন হয়েছে সকল ভয়ের শৃঙ্খল
ভেঙ্গে গেছে মুখোশ পড়া জালিমের বিষদাঁত,
চেয়ে দেখ! বিজয়ের তোরণ তলে
তোমার সন্তানদের আশেকের জমায়েত।
আর কোন ভয় নেই, নেই কোন শংকার বেড়াজাল
এখন শুধু একটি আহ্বানের অপেক্ষায়,
তোমার স্বপ্ন-প্রাসাদ নির্মাণে
ভিত্তি হবে আমাদের রক্তস্রোত।।

Related Post

অভি‌যোগ ও অনু‌যো‌গে সাজ্জাদ !!!

Posted by - September 12, 2019 0
পর্ব~১  অভি‌যোগ ও অনু‌যোগের স্পৃহার দগ্ধতায় ভে‌সে চ‌লে‌ছি ‌সেই ক‌বে, লালে লাল মরুর লা‌লিমা হ‌তে। মম  ম‌র্মে বিধুর বা‌ষ্পে চরম…

কারবালার ময়দানে শহীদগনের নামের তালিকা

Posted by - August 23, 2020 0
😭হিজরী একষট্টি সনের দশই মহররমে কারবালার উত্তপ্ত ময়দানে আল্লাহর দ্বীন ও রাসূলের সুন্নত প্রতিষ্ঠাকল্পে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের নাম নিচে…

হুসাইন(আ:) কে? (পর্ব-৫)

Posted by - September 7, 2019 0
হুসাইন(আ:) কে? (পর্ব-৫) – নূরে আলম মুহাম্মাদী। হুসাইন(আ:) কে? তা কি জানো? তাহলে বলি শোন। হুসাইন!!! যে নবী মুহাম্মাদের(সা.) মহব্বতে…

মহররমের দশ রাত এবং শামে গারীবার প্রোগ্রাম

Posted by - August 30, 2019 0
আসসালামু আ’লাইকুম। বছর ঘুরে আবারো আমাদের সামনে আরো একটি মহররম। মাওলা হুসাইনের উসিলায় আবারো কিছু দ্বীনি ভাই-বোনদের সমাবেশ, মাওলার স্মরণ,…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »