নামাজে অপরিহার্য বিষয়

867 0
🌹🌷নামাজ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন:
 

قال محمد رسول الله صلى الله عليه وآله: اَلدُّعاءُ مِفْتاحُ الرَّحْمَةِ وَ الْوُضوءُ مِفْتاحُ الصَّلاةِ وَ الصَّلاةُ مِفْتاحُ الْجَنَّةِ

 
“দোয়া রহমতের চাবি, ওযু সালাতের চাবি আর নামাজ হচ্ছে বেহেশ্তের চাবিকাঠি।”
📚নাহজুল ফাসাহা, হাদিস নং ১৫৮৮।
 
🛎নামাজ দুইটি অংশের সমন্বয়ে পরিপূর্ণ হয়। এর একটা হলো খুশু তথা আল্লাহর ভয়ে কম্পিত অবস্থা আর অপরটি হলো খুজু তথা বিনম্রভাব।
 
📙 নামাজের মধ্যে বিনম্রভাবের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে নামাজের বাহ্যিক সব কর্ম সঠিকভাবে ও ধীরস্থিরভাবে সম্পাদন করা। এটি নামাজের অপরিহার্য বিষয়।
 
সালাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘তুমানিনাহ’ বা ‘খুজু’ বজায় রাখা। ‘তমানিনাহ’ বা ‘খুজু’ হলো প্রতিটি রুকন, উঠাবসা এবং তাসবিহ, তিলাওয়াত ও দোয়ায় পরিপূর্ণ ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা। অন্যভাবে বলা যায়, নামাজের প্রতিটি কাজ ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে যথা নিয়মে করা এবং এর মধ্যে তাড়াহুড়ো না করা সালাতের বিশুদ্ধতার জন্যে আবশ্যক।
 
সালাতে ভুলে বা যে কোনো কারণে অন্যমনষ্ক হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় দোষের বিষয়টি হচ্ছে যে, সেই অবস্থায় স্থির না থাকা। হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)- এর সালাতেও শিশুর কান্না কিংবা অন্য কোনো দিকে মনোযোগ গিয়েছিল। কিন্তু একটিবারের জন্যও তার সালাতের রুকন বা রুকু-সিজদা কিংবা তিলাওয়াত ইত্যাদিতে তাড়াহুড়োর ইতিহাস নেই। যুদ্ধাবস্থায় পালা করে এক রাকাত এক রাকাত করে জামায়াতে সালাত আদায়ের নির্দেশ করা হয়েছে। তবুও তাড়াহুড়ো করে সালাতের অনুমতি দেয়া হয়নি। কোন এক হাদিসে তিনি দ্রুততার সঙ্গে সালাত আদায় করা ব্যক্তিতে বলেছিলেনঃ “তুমি সালাতই আদায় করনি! সুতরাং আবার সালাত আদায় করো।” লোকটির সমস্যা ছিল সালাতে ‘তুমানিনাহ’ বা খুজু’ ছিল না, যা সালাতের অপরিহার্য বিষয়। হযরত হুজাইফা (রা.) এক ব্যক্তিকে ‘তুমানিনাহ’ বা ‘খুজু’ বিহীন সালাত আদায় করতে দেখে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন এভাবে সালাত আদায় করছো? লোকটি বলল, ৪০ বছর ধরে। তিনি বললেন, যদি তুমি এ সালাতে অটল থেকে মারা যাও তাহলে মুহাম্মদ (সা.)- এর দ্বীনের উপর তোমার মৃত্যু হবে না! অধিকাংশ নামাজীকে নামাজের মনোযোগ নিয়ে বেশী চিন্তিত দেখা যায়। অথচ বাহ্যিক আমলগুলো যথাযথভাবে ধীর স্থিরভাবে আদায়ের গুরুত্বও কম নয়।
 
সালাতে খুশু বা মনোযোগ না থাকলে সালাতের সওয়াবে ঘাটতি হয় অর্থাৎ সালাত অপরিপূর্ণ থেকে যায় কিন্তু বাতিল হয়ে যায় না।
পক্ষান্তরে খুজু বা প্রতিটি রুকন যথাযথভাবে আদায় না করলে সালাতই হবে না! সুতরাং আমরা খুশু বা মনোযোগ নিয়ে যতটা চিন্তিত থাকি, তার চেয়ে ‘খুজু বা তুমানিনাহ’-এর প্রতি বেশী যত্নশীল হওয়া উচিত।
↯↻↯↻↯
 
🌐ইমামিয়া পাক দরবার শরীফ

Related Post

নিদর্শনাদীর নামাজ

Posted by - November 10, 2019 0
চারটি কারণে আয়াত বা নিদর্শনাদির নামায ফরজ হয়। ১ । চন্দ্র গ্রহণের কারণে। ২। চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের কারণে। ৩।…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »